kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

সব হারিয়ে গ্রামে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সব হারিয়ে গ্রামে

করোনায় সুতার কারখানার চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে শহর থেকে গ্রামে ফিরছেন সখিনা বিবি। গতকাল ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর বাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মা-বাবা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই ও এক বোনকে নিয়ে অথই সাগরে হাবুডুবু খান বিধবা সখিনা বেগম। এ অবস্থায় কাজের সন্ধানে প্রতিবেশী একজনের সহযোগিতায় ১৮ বছর আগে পাড়ি জমান নরসিংদীতে। সেখানে একটি সুতার কারখানায় কাজ করে ভাই-বোনকেও কাজ জুগিয়ে দেন।

আর সেখানেই বসবাস শুরু করে জীবন পার করছিলেন, কিন্তু করোনাকালে কিছুদিন টিকে থাকলেও চাকরি হারিয়ে এখন আর কুলাতে পারছেন না। এই অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে আসেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের গ্রামের নিজ ভিটায়।

গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল নরসুন্দা নদীর ওপর সেতু পার হচ্ছিল দুজন নারীসহ পারিবারিক মালপত্রবোঝাই একটি পিকআপ। এ সময় পিকআপটি আটকে শ্রমিক কল্যাণের নামে পিকআপচালকের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছিলেন এক যুবক। ওই সময় চোখে পড়ে পিকআপবোঝাই দৃশ্য। মিনিট দুয়েক দাঁড়ানোর সময় এই প্রতিনিধি পেছনে বসা এক নারীকে প্রশ্ন করেন, কোথা থেকে এলেন? কোথায় যাচ্ছেন? প্রশ্নের উত্তরে সখিনা (৫৫) বলেন, ‘সবই ভাগ্য। এইহান দিয়াই ১৮ বছর আগে গেছিলাম কাম করতে নরসিংদী। আর অহন হিবার (আবার) ফিরঅন লাগতাছে গ্রামে।’ কেন কী হয়েছে—প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘চাকরি গেছে, একজনের না তিনজনের। অহন হেইনো থাইক্যা খাইয়াম কী? চলবাম কিবায়? অনেক চেষ্টা করছি আর পারলাম না। দেড় বছর ধইর‌্যা ঘরভাড়া বাহি (বাকি)। খাঅন তো পরের কথা। ওইহানে থাকলে মইর‌্যা যাইয়াম। এর লাইগ্যা চইল্যা আইছি। মরলে ভিটাত মরি।’ পরে জানা যায়, তাঁর নাম সখিনা বেগম। গ্রামের নাম বলেননি। বিয়ের তিন বছর পর স্বামী মারা যান। এরপর ভাই-বোনদের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি। এক ভাই ও বোনের দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো মতে জীবন চলছিল। এখন আর চলছে না। থেমে গেছে সংসারের চাকা। এখন গ্রামের বাড়িতে গিয়ে যা আছে তা দিয়েই কোনো মতে চলার চেষ্টা করবেন। তিনি আরো জানান, তাঁর সঙ্গে আরো ১০টি পরিবারের একই অবস্থা। তারাও শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে।



সাতদিনের সেরা