kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

জীবন রক্ষাকারী বাঁধে কোপ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবন রক্ষাকারী বাঁধে কোপ

বাগেরহাটের শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে গত রবিবার বিক্ষুব্ধ জনতা বেড়িবাঁধ কেটে দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে বাঁধ জীবন রক্ষা করে, সেই বাঁধেই কোপ বসিয়েছে এলাকাবাসী। যদিও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই ওই বাঁধের নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।

গত রবিবার রাতে পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মানুষ বটতলা পয়েন্টে বাঁধ কেটে দেওয়ার পর পানি নামতে শুরু করেছে। এ ছাড়া রাজৈর ও দক্ষিণ রাজাপুরের দুটি পয়েন্টে বাঁধ কাটতে গেলে উপজেলা প্রশাসন বাধা দেয়।

ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘রাতের আঁধারে কারা বাঁধ কেটেছে তা আমার জানা নেই।’

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, সাধারণ মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হয়তো বাঁধ কেটেছে।

ক্ষুব্ধ মানুষ

গত ২৭ জুলাই থেকে তিন দিনের বৃষ্টিতে ১৫১.২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার ৪৪টি গ্রামের ৯০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ, সবজিক্ষেত, পুকুর, ঘের, রাস্তাঘাট এখনো ডুবে রয়েছে। ১৫ শতাধিক ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ৭৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ৯৫০ হেক্টর রোপা আউশ ক্ষেতের বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে রয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এদিকে গত শনিবার দুপুরে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৌদ্ধ শরণখোলায় পরিদর্শনে করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানিবন্দি শত শত মানুষ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

জলাবদ্ধতা কেন?

ভোলা-বলেশ্বর নদ বেষ্টিত বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ষাটের দশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়। সেই থেকে নদীভাঙনের ফলে বাঁধ স্থানান্তর হয় কয়েক দফা। ভাঙনের কবলে পড়ে এক পর্যায়ে বাঁধ এবং নদীর পানি একই উচ্চতায় চলে আসে। সামান্য জোয়ার হলেই তলিয়ে যেত সব কিছু। ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে বাঁধসহ ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাউবোর উপকূল রক্ষা বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআইপি-১) মাধ্যমে শরণখোলার ৬২ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি কাজ শুরু করে চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএইচডাব্লিউই। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ৩১টি জলকপাট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, এখানে কমপক্ষে ৫০টি জলকপাট প্রয়োজন।

বিভিন্নজনের বক্তব্য

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা জানান, শরণখোলাবাসী এমন জলাবদ্ধতা কখনো দেখেনি।

প্রকল্পের (সিইআইপি-১) নির্মাণ প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের (সিইআইপি-১) খুলনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, নদীর জোয়ারের পানি আর লোকালয়ের বৃষ্টির পানি একই স্তরে পৌঁছেছে। এ কারণে লোকালয়ের পানি নামতে পারছে না।

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, বেড়িবাঁধে একটি লক গেট এবং আরো স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, অতিবৃষ্টিতে বর্তমানে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি। মঙ্গলবার থেকে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন বলেন, সংকট নিরসনে পাউবো এবং এলজিইডির প্রকৌশলীদের দ্রুত পরিকল্পনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা