kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

লামা

বালু তোলায় ভাঙন, বিলীন বসতি

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি খালের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে অসংখ্য ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও একটি সেতু খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তা ছাড়া বসতঘর হারানোর ঝুঁকি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে আরো ২০ পরিবার।

পাশের ডুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সম্প্রতি এই খাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করেছে। এর বিরূপ প্রভাবে বগাইছড়ি খালে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফাঁসিয়াখালী ও পাশের চকরিয়া-ডুলাহাজারা এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে পাহাড়ি এই খালের ওপর। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর ধরে এই খাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাবে এই খালে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বালু উত্তোলনের আগে কখনো তারা বগাইছড়ি খালে ভাঙন দেখেনি। ক্রমাগত বালু উত্তোলনের কারণে এই খালের পারগুলো খাড়া হয়ে গেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণের কারণে পানির স্রোত বাড়ায় খালের খাড়া পারগুলো বালির ডিবির মতো ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের ভাঙনে দুটি বসতঘর ও প্রায় ৪০ শতাংশ ফসলি জমি খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। আরো ২০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর হুমকিতে রয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মামুন বলেন, ‘এই খালের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করার জন্য বালু উত্তোলন ৮০ ভাগ ও খালের তীব্র স্রোত ২০ ভাগ দায়ী। খালের ভাঙনে চলতি বর্ষায় দুটি ঘরবাড়ি ও গত বছর একটি সেতু বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানেও ২০টির মতো বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে আছে।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বগাইছড়ি খালের ভাঙনের বিষয়েও আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’