kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

কবিরাজের অপচিকিৎসায় হাত খোয়াতে বসেছে শিশু

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কবিরাজের অপচিকিৎসায় হাত খোয়াতে বসেছে শিশু

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বিরামপুর গ্রামের সাত বছরের শিশু আল আমিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর সাপাহারে কবিরাজের অপচিকিৎসায় আল আমিন (৭) নামের এক শিশু তার ডান হাত হারাতে বসেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাকরা জানান, উপজেলার হাঁপানিয়া বিরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আল আমিন গত শুক্রবার খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলে। এ সময় তাঁদের আত্মীয় উপজেলার আন্ধারদীঘি গ্রামের আব্দুল আলীমের পরামর্শে ধামইরহাট উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জমশেদ কবিরাজের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কবিরাজ শিশুটির হাতে বাঁশের চাটাই বেঁধে দেন। পরে ভাঙা স্থানে তীব্র ব্যথা ও ফোস্কা পড়লে গতকাল রবিবার দুপুরে ওই শিশুকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর হাতের অবস্থা দেখে তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরাজ জমশেদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, চিকিৎসা নিলে ওই শিশুর হাত ভালো হয়ে যাবে। কবিরাজির বিষয়ে লাইসেন্স বা কোনো প্রশিক্ষণ আছে কি না—তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কিছুই নেই।

সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মার্শেদ মঞ্জুর কবির লিটন বলেন, ‘শিশুটির হাতের অবস্থা খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। এই অবস্থায় আমরা তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন শিশুর হাত রাখবে, নাকি কেটে ফেলবে—সে সিদ্ধান্ত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ নেবে।’ এ সময় তিনি অপচিকিৎসা দেওয়ার জন্য ওই কবিরাজকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানান।