kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

শয্যা নেই, বাড়িতে চিকিৎসা

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শয্যা নেই, বাড়িতে চিকিৎসা

ময়মনসিংহ নগরীতে বিপুল সংখ্যক করোনা রোগী নিজ বাড়িতে থেকেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এরা প্রায় সবাই সু্স্থও হয়ে উঠছে। পরিচিত চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাসপাতালের টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে এসব রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রয়োজনে নিজ বাসায় অক্সিজেনও ব্যবহার করছে অনেকে। সংশ্লিষ্ট রোগী এবং রোগীর স্বজনরা জানিয়েছে, বাসা থেকে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়াসহ রোগীর সেবা-যত্ন নেওয়া অনেক সহজ। এ ছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে শয্যা পাওয়া কঠিন। হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশও অনেকটা অস্বাভাবিক। তাই তারা বাসাতেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে কেউ কেউ হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ময়মনসিংহ নগরীর সব এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কোনো অলিগলি বা পাড়া-মহল্লা নেই, যেখানে করোনা রোগী পাওয়া যাবে না। রোগীদের অবস্থা জটিল হলে তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। এসব রোগী তাদের পরিচিত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছে। কেউ কেউ সরকারি টেলিমেডিসিন সেবারও সহায়তা নিচ্ছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের ফ্লু কর্নার থেকেও অনেক রোগীকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের অনেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে অক্সিজেন সেবাও পাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল থেকেও বাসায় অবস্থান করা রোগীদের পরামর্শসহ প্রয়োজনে ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম বলেন, তিনি সপরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন গত ২৭ জুন। নেগেটিভ হন ১৩ জুলাই। তিনি বাসা থেকেই পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। নিয়মিত ওষুধ খাওয়াসহ অন্যান্য নিয়ম সচেতনতার সঙ্গে মেনে চলেছেন। এখন তিনি ভালো আছেন।

জানা গেছে, অনেকে করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে যেতে অস্বস্থি বোধ করছে। শয্যা না পাওয়ার আশঙ্কা, রোগী কিংবা স্বজনদের ভিড়, হাসপাতালের টয়লেটসহ অন্যান্য সমস্যার কারণেও অনেক রোগী বাসাতেই চিকিৎসা নিতে চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবার হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছে আক্রান্তরা।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত ডা. মহিউদ্দিন খান মুন বলেন, এ পর্যন্ত হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে সেবা নিয়েছে ৩১৪ জন। এর মধ্যে ৩৭ করোনা পজিটিভ ছিল। এদের মধ্যে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যরা নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছে ৩৩ জন।

জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. পরীক্ষিত কুমার বলেন, জটিল রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আবার অনেকে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছে। সব রোগীর সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ আছে। একই সঙ্গে টেলিমেডিসিন সেবাও চালু আছে।



সাতদিনের সেরা