kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

হেরোইন পকেটে ঢুকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেরোইন পকেটে ঢুকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি

যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (আবগারি) কর্মকর্তারা জোর করে জামার পকেটে দুই গ্রাম হেরোইন ঢুকিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার দুপুরে বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত বুধবার সাদিপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার তোরাব আলীর ছেলে মোস্তাব আলী মোস্তানের বাড়িতে প্রবেশ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা। এ সময় তাঁরা মোস্তান আলীকে হাতকড়া পরিয়ে বাড়ি তল্লাশি শুরু করেন। কিছু না পেয়ে নিজেদের কাছে থাকা দুই গ্রাম হেরোইন জামার পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না পেয়ে তাঁদের বাড়িতে থাকা ৭০ হাজার টাকাসহ তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোস্তানের স্ত্রী চায়না খাতুন।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে চায়না খাতুন বলেন, “গত বুধবার দুপুরে ৮-১০ জনের একটি দল মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় হাতকড়া পরিয়ে তাঁর স্বামীকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বাথরুমে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন। বাড়ি তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে হঠাৎ একটি শার্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে একজন সদস্য বলেন, ‘স্যার পেয়েছি।’

এই বলে একটি কাগজের টোপলা বের করে দেখান। এরপর তাঁরা আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। দিতে পারব না জানালে ঘরের একটি ড্রয়ার ভেঙে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। একই সঙ্গে আমার স্বামী মোস্তানকেও তুলে নিয়ে যান।”

এ ব্যাপারে পাশের রুমে থাকা মোস্তানের স্বজন চাঁদনী বলেন, ‘মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজন তল্লাশির সময় বাড়ির কাউকে রুমে প্রবেশ করতে দেয়নি।’ মোস্তানের ভগ্নিপতি বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘দিনেদুপুরে তাঁরা সিভিল পোশাকে এসে একজনের বাড়ির মধ্যে ঢুকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

এ বিষয়ে যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ওই বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছি। তবে কোনো টাকা নেইনি। আমরা যে টাকা পেয়েছি, তা দিয়ে এসেছি। আমাদের কাছে ভিডিও রয়েছে।’ ভিডিও শেষে টাকা নেওয়ার কথা বললে তিনি অস্বীকার করেন। তবে মোস্তানকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। হেরোইনসহ মোস্তানকে আটক করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে আমার কোনো স্টাফ টাকা নিয়ে আসার প্রশ্নই ওঠে না। ওই বাড়ির লোকজন যে অভিযোগ করেছেন—সেটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’



সাতদিনের সেরা