kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আক্রান্তদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

মেহেরপুর সদর উপজেলা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আক্রান্তদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। বেশির ভাগ আক্রান্ত রোগী থাকছেন হোম আইসোলেশনে। কিন্তু তাঁদের খোঁজ নেওয়ার যেন কেউ নেই। যদিও করোনা সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হতো। আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে বাইরে ঘোরাফেরা করতে না পারেন, সে জন্য অনেক বাড়ি লকডাউন করে লাল কাপড় টাঙিয়ে দিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ সার্বিক খোঁজখবর নিত স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এসবের বালাই নেই। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের লোকজন কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন—সে খবরও রাখছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। অনেক ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাঁর সংস্পর্শে আসা রোগীর স্বজনরা অনায়াসে বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতুবরণ করছেন অনেকেই। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো পরামর্শ বা চিকিৎসাসেবা।

মেহেরপুর সদর উপজেলায় বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা ১২৯ জন। এঁদের বেশির ভাগই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তা ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত সদরে মারা গেছেন ৫৭ জন রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন উজুলপুর গ্রামের রহিমা খাতুন (৭৮)। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছেলে রেজাউল হকের মোবাইলে ফোন দিয়ে ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, ‘আপনার মাকে আইসোলেশনে রাখেন। কোনো সমস্যা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ এরপর আর তিনি খোঁজখবর নেননি রোগীর।

শহরের তাঁতীপাড়ার মোখলেসুর রহমান করোনায় আক্রান্ত হন গত ২০ জুলাই। বিকেলে ডা. অলোক কুমার দাস তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আপনার রিপোর্ট খারাপ। আইসোলেশনে থাকেন।’ এরপর আর কেউ তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নেননি।

গত ২৫ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন উজুলপুর গ্রামের এনামুল হক। সন্ধ্যার দিকে তাঁকেও ফোন দিয়ে ডা. অলোক কুমার দাস বলেন, ‘আপনি করোনা পজিটিভ। বাড়িতে আইসোলেশনে থাকেন। আর যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন সেগুলো নিয়মিত খান।’ এরপর অনেকবার ওই চিকিৎসককে কল করলেও ফোন ধরেননি তিনি। 

মেহেরপুর শহরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পরিবারে তিনজন করোনা পজিটিভ। ডা. অলোক কুমার দাস ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপর তাঁকে কল করলেও ফোন ধরেন না। যাঁর দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা নেই তাঁকে ওই জায়গায় বসালে রোগীদের কপালে তো দুর্ভোগ থাকবেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি আট দিন ধরে আক্রান্ত। আমাকে কেউ একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট পর্যন্ত দেয়নি। কোনো ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রও আমাকে দেওয়া হয়নি।’

কিছুদিন ধরে এভাবেই চলছে মেহেরপুর সদর উপজেলার নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা করোনা রোগীদের চিকিৎসা। অথচ মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাস দাবি করেন, শনাক্ত হওয়ার পরপরই তালিকা ধরে সবাইকে আইসোলেশনে থাকার কথা বলা, প্রেসক্রিপশন করে দেওয়া, তাঁদের শরীরের খোঁজখবর নেওয়া এবং পুলিশকে নিয়ে বাড়ি লকডাউন করা হচ্ছে। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব করোনা রোগীদের খোঁজখবর নেওয়া। এর ব্যত্যয় হলে তাঁর দায় তিনি এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা