kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

দুই মাসেও অপসারণ হয়নি ভেঙে পড়া গাছ

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই মাস আগে ঝড়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ভেঙে পড়ে বিশাল একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও গাছটি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে গাছচাপায় নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের টয়লেট ও দেয়াল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২২ সালে ৯১ শতাংশ জমি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি ওই এলাকার সর্বপ্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথম দিকে ছাদ দিয়ে নির্মাণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে ছাদের ঢালাই ভেঙে টিনশেড তৈরি করা হয়। উপজেলায় প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিকায়ন করা হলেও এই বিদ্যালয়ে কোনো কিছুই করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়টি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দুই মাস আগে ঝড়ে কৃষ্ণচূড়াগাছটি ভেঙে পড়লেও এ নিয়ে এখনো চিঠি চালাচালিই চলছে।

সরেজমিনে গত শনিবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সামনে রয়েছে সুবিশাল একটি মাঠ। বিদ্যালয়টিতে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষ রয়েছে। বারান্দায় রাখা হয়েছে বস্তাভর্তি আবর্জনা। ঠিক ভবনের সামনের সারিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি গাছ। বিদ্যালয়ের টয়লেট লাগোয়া একটি বিশাল আকৃতির কৃষ্ণচূড়াগাছ ভেঙে পড়ে আছে। এতে অফিসকক্ষের টিনের চালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালে বসেই ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করছে স্থানীয় শিশুরা।

স্থানীয় আফজাল হোসেন বলেন, ‘দুই মাস আগে এক রাতের ঝড়ে গাছটি বিদ্যালয়ের ওপর ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় কোনো শিক্ষক খোঁজ নিতে আসে না। অবহেলায় বিদ্যালয়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূূর্ণ জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা বেগম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সাধারণত বন বিভাগ গাছের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ধীরগতির কারণে গাছটি অপসারণে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি, এ ব্যাপারে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘করোনার প্রকোপ কমে গেলেই সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। এরই মধ্যে ভেঙে পড়া গাছটি অপসারণ করার জন্য বন বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। তারা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেই এর অপসারণকাজ শুরু হবে।’



সাতদিনের সেরা