kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

রাজৈরের পাঁচ যুবকের মৃত্যু

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজৈরের পাঁচ যুবকের মৃত্যু

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে যে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পাঁচ যুবক ছিলেন।

একই নৌকায় বেঁচে যাওয়া হৃদয় শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত রবিবার মৃত্যুর খবর আসার পর প্রত্যেকের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

মৃতরা হলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের আজিজুল সিকদারের ছেলে সাগর সিকদার, হোসেনপুরের আজিজ শেখের ছেলে জিন্নাত শেখ, ছাতিয়ানবাড়ী গ্রামের বিজেন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সাধন মল্লিক, ঘোষালকান্দি গ্রামের মোশাররফ কাজীর ছেলে হৃদয় কাজী (এই মৃত্যুর খবর তিন দিন আগেই পাওয়া গেছে) এবং পাশের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তপারকান্দি গ্রামের ফজলু মুন্সীর ছেলে সজিব মুন্সী।

স্বজনরা জানান, তিন মাস আগে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে রাজৈর ও মুকসুদপুরের অনেকে লিবিয়ায় আটকা পড়েন। গত ১৯ জুলাই লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দালালরা ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বাধ্য করেন। বিভিন্ন দেশের সীমান্তে পৌঁছানোর পরও নামতে না পারায় চার দিন নৌকা ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকে। এতে প্রচণ্ড রোদে হিট স্ট্রোকে একজন এবং নিখোঁজ হয়ে চারজন প্রাণ হারান।

রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের ওদুত মিয়ার ছেলে হৃদয় শেখ মৃতের পরিবারকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘প্রথমে হৃদয় কাজী আমার কোলেই পানি পানি করতে করতে মারা গেছে। আর সাগর সিকদার, জিন্নাত শেখ, সজিব মুন্সী ও সাধন মল্লিক—এরা নিখোঁজ থাকার পর খোঁজখবর নিয়ে তাদের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পাই।’

জিন্নাত শেখের মা হালিমা বেগম কান্নাজরিত কণ্ঠে জানান, সত্যবর্তী গ্রামের দালাল রেজাউল শেখ ও শহিদুল মোল্লা তাঁর ছেলেকে ইতালি পৌঁছে দেবে বলে কয়েক দফায় ১১ লাখ টাকা নিয়েছেন। এরপরও ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হলো।

সজিব মুন্সীর মা সাহানা বেগম জানান, ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ ১৮ জুলাই ফোনে কথা হয়েছে। তখন ছেলে বলছিল, ‘মা, আমার জন্য দোয়া কোরো আমাকে এখন দালাল গেমঘরে নেবে। এরপর আর কথা হয়নি।’

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানায়, মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের মানবপাচারচক্রের সদস্য ইলিয়াছ ফকির, টুটুল ফকির এবং রাজৈর উপজেলার সত্যবর্তী গ্রামের শাহিন সরদার, রেজাউল শেখ, শহিদুল মোল্লা, ইলিয়াছ শেখ ও শ্রীরামপুর গ্রামের লিটন মোল্লা সাত থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়ে যুবকদের ইতালি পাঠানোর স্বপ্ন দেখান।

ধারদেনা করে এই টাকা জোগাড় করে দিলেও শেষরক্ষা হয়নি এসব পরিবারের।

হৃদয় শেখের সঙ্গে এই ঘটনায় রাজৈর উপজেলার আহত প্রায় ১০-১৫ জন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় তিউনিসিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে অসহায় পরিবারগুলো।

রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা