kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

ভোট না দেওয়ায় পাইপপেটা

রামনা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোট না দেওয়ায় পাইপপেটা

মাথায় জখমের পর লোহার পাইপ দিয়ে পেটানো হয় বরগুনার বামনা উপজেলার নরসুন্দর অসীম চন্দ্র শীলকে। ছবি : সংগৃহীত

এক নরসুন্দরকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়েছেন বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন বামনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকুর রহমান। একইভাবে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন থানার পরিদর্শক (ওসি) বশিরুল আলম। নরসুন্দর অসীম চন্দ্র শীল গতকাল সোমবার সকালে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে অসীম জানান, রামনা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। ঢাকার একটি সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করেন। তাঁর বাবা বিমল চন্দ্র শীল স্থানীয় বৈকালিন বাজারের চা দোকানি। করোনায় কয়েক মাস ধরে গ্রামের বাড়িতে আছেন অসীম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার বিজয়ী হন। এর পর থেকে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নৌকায় ভোট না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন চেয়ারম্যান। পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিতে থাকেন। চেয়ারম্যান প্রভাবশালী, তাঁর একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও রয়েছে বলে অভিযোগ। তাই ক্ষতির ভয়ে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে বৈকালিন বাজারে চেয়ারম্যানের কাছে ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাইতে যান অসীম। এ সময় চেয়ারম্যানের অনুসারী ফরিদ (৩৫), বাপ্পি (৪০), ফোরকান (২৬), ইমরান (১৭), রাজু জোমাদ্দারসহ (৪০) কয়েকজন মিলে অসীমকে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম উজ্জ্বল ও ফকরুল ইসলাম কমল তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মেরে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে এসআই সিদ্দিকুরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন থানার ওসি বশিরুল।

এদিকে মাথায় রক্তাক্ত জখম নিয়ে অসীম পাশের আরএন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে যান। সেখান থেকে তাঁকে ধরে এনে চেয়ারম্যান নজরুল লোহার পাইপ দিয়ে পেটান। এ সময় এসআই সিদ্দিক ঘটনাস্থলে এবং ওসি বশিরুল সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বৈকালিন বাজারে অসীমের বাবার চায়ের দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় চেয়ারম্যান ও তাঁর বাহিনী। এ সময় চেয়ারম্যানকে থামাতে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক (৫০)। তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

অসীম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ভয়ে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পারেননি। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা করতেও সাহস করেননি। প্রথমে পাশের পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় আরেক ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, ‘মারধরের সময় অসীমকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমাকেও পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর বাহিনী।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা নজরুলকে সমর্থন দেয়নি, তাদেরকে নির্বাচনের পরে খেলা দেখাবেন বলেও ভোটের আগে হুমকি দেয় চেয়ারম্যানের বাহিনী।’

এ বিষয়ে রামনা ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং অসীম এবং তাঁর সহযোগীরা আমার লোকজনের ওপর হামলা চালালে তা প্রতিহত করতে গিয়ে দু-একজন সামান্য আহত হয়ে থাকতে পারে। এর বেশি কিছুই না।’

এ বিষয়ে জানতে বামনা থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে বামনা থানার ওসি মো. বশিরুল আলম বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা জানিয়েছি।’



সাতদিনের সেরা