kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

হাসপাতালে শয্যাসংকট

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাসপাতালে শয্যাসংকট

নেই আইসিইউ। পাঁচটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকলেও তিনটি নষ্ট, বাকি দুটি বন্ধ। সম্বল শুধু অক্সিজেন। এর পরও নরসিংদীর একমাত্র কভিড ডেডিকেটেড ৮০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গিয়ে সংকটাপন্ন রোগীরা বিপাকে পড়ছে। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকার চিত্র গতকাল সরেজমিনে দেখেছেন এই প্রতিবেদক।

এদিকে জেলার সব কয়টি নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় বেড়ে চলছে, বাড়ছে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলা পর্যায়ে পিসিআর ল্যাব না থাকায় ঢাকার ল্যাবের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে নমুনার ফল পেতে বিলম্ব হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছে সেবাপ্রত্যাশীরা। সর্বশেষ গত ৯ দিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯৫০ জন। এ ছাড়া আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে চারজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৯৫ জন। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে জেলার একমাত্র কভিড ডেডিকেটেড ৮০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ৭১ জন। একই হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরো ২৯ জন। এ ছাড়া বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছে এক হাজার ২১৫ জন। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মোট ৬৯ জন। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ৩৪, পলাশে ৬, বেলাবোতে ৭, রায়পুরায় ৮, মনোহরদীতে ৫ ও শিবপুরে ৯ জন।

গতকাল রবিবার কভিড ডেডিকেটেড ৮০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে আসছে অনেকে। যদিও এই হাসপাতালটিতে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অতি জরুরি পাঁচটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকলেও কার্যকর রয়েছে মাত্র দুটি। তবে এতে অক্সিজেন ব্যবহার বেশি হওয়ায় সংকট কমাতে এই দুটিও আপাতত ব্যবহার করা হচ্ছে না। শিল্পপতি আবদুল কাদির মোল্লার দেওয়া সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেমে একসঙ্গে ৫০ জন রোগীর সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া এই জেলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেই কোনো আইসিইউর ব্যবস্থা। করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাব্যবস্থা বিশেষ করে অক্সিজেনের অভাব থাকায় সংকটের মুখে পড়ছেন অনেক রোগী। আশঙ্কাজনক হারে রোগী বাড়ার কারণে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তবে অক্সিজেন সংকটের কথা বিবেচনা করে গত শনিবার সন্ধ্যায় ১০০টি বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার উপহার দিয়েছে রায়পুরা উপজেলার বজলুর রহমান অ্যান্ড শাহানারা ফাউন্ডেশন।

এদিকে জেলার সব কয়টি উপজেলা হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য পাঁচটি করে পৃথক শয্যা রাখা হলেও সেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর তেমন চিকিৎসা সুবিধা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হয়ে অনেকে ঢাকায় গিয়েও পাচ্ছে না চিকিৎসার সুযোগ।

কভিড ডেডিকেটেড ৮০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘যে হারে রোগী বাড়ছে এতে আমাদের বর্তমান জনবল দিয়ে সেবা প্রদান করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্সসহ আরো জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

আশা করি, দ্রুত পেয়ে যাব। সামর্থ্যের মধ্যে আমরা সাধ্যমতো করোনা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

নরসিংদীর সিভিল সার্জন মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য জেলায় ৮০ শয্যা থেকে এরই মধ্যে ১২০টি শয্যা করা হয়েছে। সব উপজেলা হাসপাতালসহ প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও করোনা রোগীর জন্য শয্যা করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা