kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

স্বাস্থ্যকর্তার পকেটে টিকার টাকা

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাস্থ্যকর্তার পকেটে টিকার টাকা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনার টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ওই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা প্রতিরোধে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন, প্রশিক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়ের বরাদ্দ বাজেট ঘোষণা করে। এমএনসিঅ্যান্ডএএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শামসুুল হক সেই অনুযায়ী বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। বিবরণীতে বলা হয়, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১২টি দল টিকাদানকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষে কাজ করবেন। প্রতি দলে দুজন করে টিকাদানকারী মোট ২৪ জন, চারজন করে স্বেচ্ছাসেবী মোট ৪৮ জন। ১২টি দলে জনবল থাকার কথা ৭২ জন। খরচের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট সবার আপ্যায়ন, ডিস্ট্রিবিউট পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্যাকসিন ও লজিস্টিক পরিবহন ব্যয়, ভিজিট ব্যয়, স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রী ব্যয়, অনিয়মিত শ্রমিকদের খরচ এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ পাঠালেও ভ্যাকসিনের অভাবে জেলার কোথাও ইউনিয়ন পর্যায়ের এসব টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জেলা থেকে শুধু উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন আনা-নেওয়াসহ অন্য কিছু খরচ হলেও মোট বরাদ্দের একটা বড় অংশ অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারকে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বাগাতিপাড়া উপাজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা সব কার্যক্রমে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সেগুলো স্বাস্থ্য বিভাগে অর্পণপূর্বক বরাদ্দের সব টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা দাবি করেন, ‘আমি নিয়ম মেনে সব কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করেছি। আমার কাজের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কেউ দিতে পারেনি।’

তবে দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন এলাকায় ভ্যাকসিন ও প্রশিক্ষণের কোনো কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি।’ একই কথা জানান বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মী জানান, যে বরাদ্দ হয়েছিল তা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য। যেহেতু ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম হয়নি, তাই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে টাকা খরচ হয়েছে শুধু তাঁর বিল করে বাকি টাকা অধিদপ্তরে ফেরত পাঠাতে। কিন্তু উপজেলা কর্মকর্তা অন্য উপজেলা থেকে ওই বিল-ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দের সব টাকা উত্তোলন করেছেন।

ভ্যাকসিনের অভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও টিকাদান না হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘কার্যক্রমগুলো না হওয়া বরাদ্দের একটা অংশ ফেরত পাঠিয়েছি।’

নাটোরের সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওই সব কার্যক্রম না হওয়ায় অন্যান্য উপজেলা থেকে টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ তবে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা কাজ না হওয়া বরাদ্দের টাকা ফেরত পাঠিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, ‘হাসপাতালের বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমাকে কিছুু জানাননি। তবে আমার দপ্তরে একটি অভিযোগ এসেছে, যা খুব দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা