kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

আশুগঞ্জ-ভৈরব নদীবন্দর

নৌ পরিদর্শকের চাঁদাবাজি

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌ পরিদর্শকের চাঁদাবাজি

জসিম উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে নৌযানে চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মাঝি-মাল্লারা। তাদের অভিযোগ, আশুগঞ্জ-ভৈরব নদীবন্দরের নৌপরিবহন পরিদর্শক জসিম উদ্দিন এই চাঁদাবাজি করেন। টাকা দিতে না চাইলে নৌযান আটকে রাখেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাচীনকাল থেকে বন্দরনগরী ভৈরবের সঙ্গে নদীপথে হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও নরসিংদীর মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে। কম খরচে মালামাল ও যাত্রী পরিবহন সহজ হওয়ায় এটি ছিল যোগাযোগের একমাত্র পথ। এরই ধারাবাহিকতায় এখনো নদীপথে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, বাল্কহেড, স্টিলের নৌকা, লঞ্চযোগে এ পথে ভৈরব থেকে সুনামগঞ্জ ও নরসিংদীতে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন চলমান। তবে কী পরিমাণ জলযান নদীপথে চলাচল করে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই ভৈরব-আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ নৌ অধিদপ্তরের কাছে। তা ছাড়া বৈধ জলযান বা সার্ভেয়ার করা নৌযানের সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। তবে নৌ অধিদপ্তরের আনুমানিক হিসাব মতে, প্রায় লক্ষাধিক নৌযান সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর ছয়টি জেলায় মেঘনা, ঘোড়াউত্রা, কালি, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটা নদীপথে চলাচল করে। আর এসব নৌযানের ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র বা সার্ভেয়ার নেই বললেই চলে। এই অজুহাতে নৌযান আটকে রেখে মাঝি-মাল্লাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু তা-ই নয়, নদীর তীরে গড়ে ওঠা ডক ইয়ার্ড, অবৈধ স্থাপনা থেকেও অনৈতিকভাবে মাসোহারা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রতিদিন তাদের আটক করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে ছেড়ে দেন, না দিলে নানাভাবে হয়রানি করেন। একদিকে করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অত্যাচার যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

এ বিষয়ে নৌকার মাঝি নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘পরিদর্শক জসিম উদ্দিন প্রায়ই মেঘনা নদীতে আমাদের নৌকা আটক করে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নৌকা আটক করে নানাভাবে হয়রানি করেন।’

মাঝি মো. বদরুল, কালা মিয়া, জাকির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জসিম উদ্দিন তাঁর লোকজন নিয়ে মাঝিদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে ১০-২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। তারা এই হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের আশুগঞ্জ-ভৈরব কার্যালয়ের নৌপরিবহন পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নদীতে চলাচলকারী অবৈধ নৌযানকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া আমি অপরাধী হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক সম্প্রতি ভৈরবে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’