kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ভদ্রা বিলের চাষিদের কান্না

ঈশ্বরদীতে অপরিকল্পিত মিলে অনাবাদি হয়ে পড়েছে ৭০০ একর জমি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভদ্রার বিল। পাবনার ঈশ্বরদীর এই বিলে প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি আছে। বিলের পানি বের হওয়ার জন্য কালভার্ট আছে; কিন্তু তিন বছর আগে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে নির্মাণ করা হয়েছে পেপার মিল (কাগজকল)। একই সঙ্গে কালভার্টের ওপর দিয়ে মিলে যাতায়াতের পথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানি জমে সব জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ১০ গ্রামের শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে ২২ নভেম্বর দাশুড়িয়া-মুলাডুলি মহাসড়কের সরাইকান্দিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ সময় কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়াসহ মিলের বর্জ্য মিশ্রিত পানি অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। এ জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

আমজাদ হোসেন জানান, তিন বছর ধরে কোনো আবাদ হয় না। মিল ছাড়াও আশপাশে বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বাধ্য হয়ে কৃষকরা শিল্প-কারখানার মালিকদের কাছে স্বল্পমূল্যে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে আফজাল হোসেন বলেন, বছরে দুইবার ভদ্রার বিলের জমিতে আবাদ হতো। সেখানে বছরের পর বছর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। যাঁরা আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁরা অভাব-অনটনের কারণে পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ এখন রিকশা, ভটভটি বা অটোবাইক চালাচ্ছেন।

মুলাডুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইউনিয়নবাসী। তখন মিল কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মুলাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা বলেন, শিল্প-কারখানার মালিকদের সদিচ্ছার অভাবে সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, নদী খনন করে বিলের পানি বের করে জলাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার বিষয়ে ইউএনও পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কারণ আগের ইউএনওর সময় অভিযোগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মিলটির কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



সাতদিনের সেরা