kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

আইসিইউ সোনার হরিণ শয্যাও ফাঁকা নেই

বগুড়ার দুই হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইসিইউ সোনার হরিণ শয্যাও ফাঁকা নেই

বগুড়ায় লকডাউন সত্ত্বেও যানবাহন ও মানুষের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ নেই। এর ফলে বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে অনেককে। জেলার দুটি হাসপাতালের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট), এইচডিইউ (হাই ডিপেডেন্সি ইউনিট) তো নয়-ই, কোনো শয্যাও ফাঁকা নেই। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপে শয্যা সংখা ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৬৪ করার পরও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বগুড়া পৌর এলাকা ও সদর থানায় সর্বাত্মক কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনের পঞ্চম দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। দিনের বেলা পুলিশ কিছুটা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও মানুষ নানা কাজে বাইরে বের হচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে।

এ ছাড়া রাতেও স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষো করে বাজার, দোকান বসছে। চলছে প্রাইভেট কার, সিএনজি, থ্রি-হুইলার, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। জেলা প্রশাসনের বিধি-নিষেধে বিকেল ৩টার মধ্যে বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে পৌর এলাকার পুলিশ সুপারের বাসভবনের কয়েক গজ দূরে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে বৌবাজারে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিটি দোকান ও হোটেলে বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে গত বুধবার। সেখানের জমজমাট চায়ের দোকানে যুবকরা আড্ডায় মেতে ওঠে। পৌর এলাকার মালতিনগর, রহমাননগর, বাদুড়তলা, সেউজগাড়ীতে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে জটলা করে আড্ডা দেয়।

এসব অনিয়মের কারণে বগুড়ায় মৃত্যুর মিছিল কমছে না। সর্বশেষ গতকালও বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট আটজন মারা গেছে।

জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন গতকাল করোনার তথ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। বগুড়ার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আটটি আইসিইউ, পাঁচ এইচডিইউসহ ১০০ করোনা শয্যা আছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় তিল পরিমাণ জায়গা নেই। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

বগুড়া মোহম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ১১৬টি শয্যা নির্ধারিত ছিল। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে আরো ৪৭ শয্যা বাড়িয়ে এখন ১৬৪-তে উন্নীত করা হয়েছে। তবুও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন রোগী আসা অব্যাহত আছে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, তাঁদের হাসপাতালে আটটি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ছয়টি শয্যা ভালো আছে। অন্য দুটি বর্তমানে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা খারাপের কারণে অচল হয়ে রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় শহরে সামাজিক সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ণ লকডাউন ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। আর পরিস্থিতি খারাপ হলে চিকিৎসকদের করার কিছু থাকবে না। যত দিন সবাইকে করোনা টিকার আওতায় না আনা যাবে তত দিন স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।