kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

শিকলবন্দি ৯ বছর

জয়পুরহাট

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিকলবন্দি ৯ বছর

জয়পুরহাট পৌর এলাকার গৌরীপাড়া মহল্লায় বাড়ির সামনে শিকলবন্দি রাসেল মাহমুদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

দরিদ্র কৃষক লুৎফর রহমানের তিন সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে রাসেল মাহমুদের জন্ম ১৯৮১ সালে। কিশোর বয়স থেকে কাঠমিস্ত্রির কাজ করা রাসেল দেখতেও বেশ সুন্দর। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর দারিদ্র্যের কারণে সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। বড় ভাই উজ্জ্বল হোসেনও পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তাঁর সঙ্গে থেকে এই পেশা রপ্ত করেন রাসেল।

কিন্তু মাত্র ১৪ বছর বয়সে পাল্টে যায় রাসেলের জীবনের হিসাব-নিকাশ। কোথা থেকে কী হলো—কিছুই বলতে পারেন না তিনি। হঠাৎ করেই অস্থির আচরণ করা শুরু করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কবিরাজি চিকিত্সা দেওয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি। বরং তাঁর পাগলামি বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় পরিবারসহ পাড়া-প্রতিবেশীদের মারধর শুরু করলে ২০১২ সাল থেকে তাঁর হাত ও পায়ে শিকল পরানো হয়। ফলে গত ৯ বছর ধরে নিজ বাড়ির বাইরে পরিত্যক্ত স্থানে গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি জীবন কাটছে রাসেলের।

জয়পুরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গৌড়িপাড়া মহল্লায় বাড়ির সামনে শিকলবন্দি জীবন কাটানো রাসেল মাহমুদের বয়স এখন ৪০ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিত্সা দিয়েও তাঁর কোনো উন্নতি হয়নি। দারিদ্রের কারণে তাঁর চিকিত্সার ব্যয় আর বহন করতে পারছে না পরিবার। তাই কষ্ট লাগা সত্ত্বেও হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বাড়ির বাইরে।

সরেজমিন রাসেলদের বাড়ি গৌড়িপাড়া মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় মাটিতে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছেন তিনি। ডাক দিলে উঠে দাঁড়িয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল মাহমুদের মা জোসনা বেগম বলেন, ‘সন্তানকে শিকল দিয়ে রাখা যে কত কষ্টের—তা কাউকে বোঝানো যাবে না। ২৭ বছর ধরে এই পাগল ছেলের চিকিত্সা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে হয়তো উন্নত চিকিত্সা করিয়ে আমার ছেলেটাকে সুস্থ করতে পারতাম।’

জয়পুরহাট সদরের ইউএনও আরাফাত হোসেন বলেন, ‘সরকারি আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাসেলকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হবে।’