kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

অবৈধ ঘেরে পানিবন্দি জীবন

কলাপাড়ায় পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে অর্ধশতাধিক মানুষ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ ঘেরে পানিবন্দি জীবন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে অবৈধ মাছের ঘেরে (নিচে) পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও টানা বর্ষণের পানি নিষ্কাশনের অভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পাশের তালতলী উপজেলার দক্ষিণ ঝাড়াখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. লতিফ সরকারি খাসজমিসহ নিজের জমিতে অবৈধভাবে মাছের ঘের করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আটকে দিয়েছেন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামবাসী।

পানিবন্দি অবস্থায় বসবাসের ফলে ফতেহপুর গ্রামের ১০ জেলে পরিবারের বিভিন্ন বয়সী সদস্যরা পানিবাহিত নানা রোগে ভুগছে। এর প্রতিকার চাইলে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করছেন প্রধান শিক্ষক।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আন্ধারমানিক নদের তীরঘেঁষা ফতেহপুর গ্রাম রক্ষাকারী বেড়িবাঁধের বাইরে সরকারি খাসজমিতে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের বসবাস। নদীর তীরে বসবাস করলেও এখানকার ১০ পরিবারের মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধ হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে। এসব বাসিন্দার বাড়ির পেছনের খাসজমি ও প্রধান শিক্ষকের রেকর্ডীয় প্রায় তিন একর জমিতে একটি মাছের ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রতিবেশীদের বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই ১০ পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে ডুবে আছে।

ভুক্তভোগী দুলাল বয়াতী বলেন, ‘আমরা এখানে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি। আশির দশকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত পাওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কেনেন প্রধান শিক্ষক আ. লতিফের বাবা এনায়েত হোসেন। এর মধ্যে বিএস জরিপে মাত্র ৯০ শতাংশ জমি রেকর্ড হয় তাঁদের নামে। তবে প্রধান শিক্ষক আ. লতিফ তাঁদের রেকর্ডীয় জমির সঙ্গে সরকারি জমি দখল করে একটি বিশাল মাছের ঘের করেছেন। তবে যখন তিনি মাছের ঘের নির্মাণ করেন, তখন আমাদের বসতবাড়ির পানি নিষ্কাশনের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কথা রাখেননি। ফলে আমরা ১০ পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমরা প্রশাসনের সহায়তায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার দাবি করছি।’

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত খাদিজা বেগম বলেন, ‘দূষিত পানির কারণে তিন দিন ধরে আমার ডায়রিয়া। শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির বৃদ্ধ ও শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’ মালেকা বেগম বলেন, ‘আমরা এখন আর আমাদের ঘরে রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছি না। বেড়িবাঁধের ভেতরের বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে গোসল করাসহ রান্নার কাজ করছি। আমাদের পানিতে ডুবিয়ে খুব কষ্ট দিচ্ছে লতিফ মাস্টার। তাঁর এ কাজের বিচার হওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আ. লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিগগিরই দুই পক্ষের সঙ্গে বসে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।