kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

রংপুরে অচল পিসিআর ল্যাব

গাইবান্ধায় নমুনা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনা

রংপুর অফিস ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে অচল পিসিআর ল্যাব

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়লেও রংপুর বিভাগে পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়েনি। উল্টো রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর মেশিনটি সার্ভিসিংয়ে দেওয়ায় গত তিন দিন ধরে নমুনা পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উত্তরের চার জেলায় করোনার নমুনা সংগ্রহ স্বাভাবিক থাকলেও পরীক্ষা হচ্ছে না পিসিআর ল্যাবে। বিশেষ ব্যবস্থায় নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকা ও দিনাজপুরে। ফলে পরীক্ষার প্রতিবেদন মিলছে দেরিতে। সেই সঙ্গে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তিও। ল্যাব সচল করতে কারিগরি টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে মেশিনটি চলছে। তাই এটিকে সার্ভিসিংয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চ মাসে করোনার প্রকোপ শুরু হলে ঢাকার বাইরেও করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজে একটি ও দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। প্রতিদিন ল্যাবে ১৮৮ জনের পরীক্ষা করা সম্ভব। গত দুই সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে করোনা শনাক্তের হার ও মৃত্যু বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজে করোনা শনাক্তের পিসিআর মেশিনটি তিন দিন ধরে কাজ না করায় নমুনা দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সন্দেহভাজন রোগীদের। এখনাকার সংগৃহীত কিছু নমুনা যাচ্ছে ঢাকায়, কিছু দিনাজপুরে। তাই নমুনা দিলেও এর প্রতিবেদন আসতে কয়েক দিন লেগে যাচ্ছে। তার পরেও করোনা হাত থেকে রক্ষা পেতে নমুনা পরীক্ষার বিকল্প নেই বলে মনে করছে অনেকে। সচেতন মহলের শঙ্কা—এই সংকটকালে আরো পিসিআর মেশিন বসানোর পাশাপাশি দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মেশিনটি সার্ভিসিং করে পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা জটিল হয়ে পড়বে।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, গত শনিবার হঠাৎ করে ল্যাবের বায়োসেন্টি সিসটেম অচল হয়ে পড়ে। এতে করে ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এই পিসিআর ল্যাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ডেডিকেডেট করোনা হাসপাতাল, রংপুর জেলা, সিটি করপোরেশন, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হতো। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকার পিসিআর ল্যাব থেকে নমুনা পরীক্ষার কাজটি করা হবে।

এদিকে গাইবান্ধায় করোনার নমুনা দিতে গিয়ে সন্দেহভাজন রোগীরা নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিরা এ অভিযোগ করেন। অভিযোগে জানা গেছে, দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণ বাড়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে কয়েক শ মানুষ করোনার নমুনা দিতে ভিড় করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময়মতো গিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে বা বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে করে সহেন্দভাজন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা নানা বিপাকে পড়ে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়েও নমুনা দিতে না পেরে অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী লোক ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা