kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

মেহেরপুর

ভবনের গোড়ায় গলদ

আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আধুনিক ডাক ভবন নির্মাণে অনিয়ম

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবনের গোড়ায় গলদ

মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড়ে পুরনো ডাক ভবন ভেঙে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণের শুরুতেই বেইস (গ্রাউন্ড ফ্লোর) ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। ঠিকাদারের যোগসাজশে রাতের আঁধারে পাইলিংয়ের পুরনো পিলার গুঁড়া করে পাথরের সঙ্গে মিশিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ডাকঘরগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও ইমেজ বৃদ্ধিতে একাধিক উদ্যোগ বা প্রকল্প গ্রহণ করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এর একটি হলো ডাকঘরের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ কর্মসূচি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডাকঘরই ‘পোস্ট ই-সেন্টারে’ পরিণত হবে। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। সম্প্রতি ‘পোস্ট-ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এই প্রকল্পের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ করা হবে। এ অবস্থায় ডাক বিভাগের প্রধান কার্যালয় ভবনের আদলে মেহেরপুরসহ সারা দেশে ডাক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মেহেরপুর পোস্ট অফিসের (ডাকঘর) পুরনো ভবন ভেঙে আধুনিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেহেরপুর পৌর শহরের কলেজ মোড় এলাকায় আধুনিক ডাক ভবনের বেইস ঢালাইয়ের কাজের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য রাত দেড়টার দিকে পুরনো পাইলিংয়ের পিলার ভেঙে মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়া করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মেহেরপুর আধুনিক পোস্ট অফিসের তিনতলা ভবন নির্মাণের জন্য সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ পান কুষ্টিয়ার শহিদুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তথ্য দিতে গড়িমসি শুরু করেন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন। পরে কথা হয় হেড মিস্ত্রি আব্দুল মালেকের সঙ্গে। এ সময় তিনি নিজেকে সাব-ঠিকাদার বলে দাবি করেন। রাতে পুরনো পাইলিংয়ের পিলার ভেঙে পাথরের সঙ্গে মিশিয়ে বেইস ঢালাই করার কথা স্বীকার করে আব্দুল মালেক বলেন, ‘পাইলিংয়ের যা ভাঙা হয়েছে, তার তিন ভাগের দুই ভাগ এখনো আছে। ঢালাইয়ের কাজে সামান্য কিছু মেশানো হয়েছে।’ মোবাইল ফোনে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাজে কিছু উনিশ-বিশ হতে পারে। তবে মিস্ত্রিদের পুরনো কিছু দেওয়ার বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে।’

মেহেরপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবু সাঈদ জহিরুল হক বলেন, ‘প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার বাসেত আলী এই ভবন নির্মাণকাজ দেখাশোনা করছেন। তিনি আমাকেও বিষয়টি দেখতে বলেছেন। কিন্তু ঢালাইয়ের সময় আমাকে না ডেকেই ঢালাই করা হয়েছে। পুরনো পিলার ভেঙে সেগুলো এখানে দিতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শুনেছি, তাঁরা সেগুলো ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ এ ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বাসেত আলীকে বারবার কল করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি।