kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

ভোটের আগেই ভয়ে ভোটার

লক্ষ্মীপুরে কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী সন্ত্রাসী ভাড়া করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোটের আগেই ভয়ে ভোটার

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় ছয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। এরই মধ্যে দুই ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়, কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভোটাররা।

বিগত নির্বাচনগুলোতেও বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও জলদস্যুরা কেন্দ্র দখল ও গোলাগুলি করেছিল। এবারও কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেছেন বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের দাবি উঠেছে। অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গত বুধবার লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে নির্বাচন বন্ধ রাখতে হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী সোমবার কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ, চরফলকন, হাজিরহাট; রামগতি উপজেলার চরবাদাম, চরপোড়াগাছা ও চররমিজে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপনির্বাচন।

স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, কমলনগরের তোবারগঞ্জের চরপাগলা গ্রামে গত রবিবার আওয়ামী লীগ পদপ্রার্থী মির্জা আশরাফুল জামান রাসেলের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল আহমেদ রতনের অনুসারী ৩১ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া গত বুধবার রামগতির চররমিজের বিবিরহাটে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোজাহিদুল ইসলাম দিদারের ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফত আলী ভূঁইয়াসহ (আনারস) ২০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফলকনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান (ঘোড়া) ও মোশারফ হোসেন বাঘা (নৌকা), তোরাবগঞ্জে ফয়সাল আহমেদ রতন (ঘোড়া) ও মির্জা আশরাফুর জামান রাসেল (নৌকা), হাজীরহাটে নিজাম উদ্দিন (নৌকা) ও আক্তার হোসেন মিলনের (চশমা) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাসেলের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর রতনের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বাহার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুল করিম। গত বুধবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করেন।

কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন আমার প্রচারের মাইক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছেন। নেতাকর্মীদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকিতে সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করার আহবান জানাচ্ছি।’

রামগতি থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, ‘নির্বাচনে বহিরাগতদের এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সংঘাত-দলাদলি করতে কাউকেই আমরা ছাড়ব না। এরই মধ্যে প্রার্থীদের সতর্ক করে বার্তা দেওয়া হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। বিশৃঙ্খলা হওয়া দুটি ইউনিয়নে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শোকজ ও সতর্ক করে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।’



সাতদিনের সেরা