kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ভবন ও মিলনায়তন ভাঙার দরপত্র

২২ লাখ টাকা কম

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২২ লাখ টাকা কম

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয় ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন ভবন দুটি নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় হয়েছিল ১২ কোটি টাকা।

অথচ ভবন দুটি ২৩ লাখ টাকায় বেচা হচ্ছে। যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটি কিনেছে, তারা ৪৫ লাখ টাকায় বেচতে চাচ্ছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, পৌরসভা ২২ লাখ টাকা কম দামে এগুলো বেচে দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার জন্য পৌরসভা দরপত্র ডাকে। ২৮টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কেনে। ১৫ জুন ছিল জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের পর বাক্স খুললে মাত্র তিনটি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে শামীম এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ প্রায় ২৩ লাখ টাকা দর দিয়েছে। এই দর পৌরসভার নির্ধারিত প্রাক্কলন মূল্যের সামান্য বেশি, যা গোপন থাকার কথা। দরপত্র দাখিল করা বাবু বিল্ডার্স দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হয়, মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দর দিয়ে। এর বাইরে দরপত্র জমা দেওয়া এম এম বিল্ডার্স কোনো পে অর্ডার জমা দেয়নি। অবশ্য কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর জমা দিতে হবে। সেই অনুসারে কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে ওই দুই ভবন কিনতে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানায়, মূলত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েক নেতা মিলে কাজটি নিয়েছেন। তাঁদের উদ্যোগেই দরপত্র কেনা অন্য ঠিকাদারদের সঙ্গে অনির্ধারিত বৈঠক হয়। সেখানে জানানো হয়, দরপত্র কেনা প্রত্যেককে ২৫-৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ কারণে সমঝোতার ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাগজ বাক্সে ফেলা হয়।

এদিকে সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে ওই ভবন দুটি বেচার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ভবন দুটি ৪২ লাখ টাকা দাম উঠেছে। তবে যাঁরা এর পেছনে রয়েছেন তাঁরা চাইছেন ৪৫ লাখ টাকা।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. কাউছার আহমেদ বলেন, ‘প্রাক্কলন মূল্যের ওপরে যে দরপত্র জমা  দেবে, নিয়ম অনুসারে সেই প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দেওয়া হবে।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নিকাশ চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘মূল্যায়ন কমিটির সভায় সব চূড়ান্ত করা হবে।’



সাতদিনের সেরা