kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

মায়ার হরিণ

‘আমাদের একাকিত্ব সময়ে হরিণ শাবকটি ঘিরে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি’

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মায়ার হরিণ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা বন বিট কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী হরিণ শাবককে দুধ খাওয়াচ্ছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা টানা চোখের ফুটফুটে চেহারার হরিণ শাবক। ‘টিউ’ বলে ডাকলেই কাছে ছুটে আসে। ক্ষুধা পেলে কাপড় টেনে ধরে। এভাবে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা বিট কর্মকর্তা গোলাম কাওসারের ঘরে আদর ও অপত্য স্নেহে লালিত হচ্ছে এটি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতের ওপর দিয়ে গেলেও বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাসে উপকূল ডুবে যায়। গত ২৭ মে প্রবল জোয়ারের তোড়ে ভেসে যাচ্ছিল চিত্রল হরিণটি। তখন কাওসারসহ বনকর্মীরা উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। লবণাক্ত জলে ভিজে দুর্বল হয়ে পড়েছিল শাবকটি। ভয় ও শীতে কাঁপছিল। হরিণঘাটা বনসংলগ্ন সরকারি বাসভবনে নিয়ে লালন করতে থাকেন তাঁরা। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ডেকে এনে চিকিৎসা দেন।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, বন কর্মকর্তার দোতলা বাসভবনে অবাধে বিচরণ করছে সেটি। একটি বোতলে নিপল লাগিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছেন কর্মকর্তার স্ত্রী। মানবশিশুর মতো কোলে শুয়ে দুধ পান করছে শাবকটি। অপরিচিত মানুষ দেখলে দিগ্বিদিগ ছোটে এবং খাটের নিচে লুকায়।

গোলাম কাওসার জানান, ইয়াসে বন প্লাবিত হয়ে ২৬ মে একটি হরিণ লোকালয়ে আসে। কিন্তু কুকুরের কামড়ে মারা যায় সেটি। তাই তিনি হরিণ শাবকটি বাঁচাতে ঘরে নিয়ে আসেন।

পাথরঘাটার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক বলেন, ‘ষাটের দশকে সৃষ্ট হরিণঘাটা বনের প্রাণী নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।’

গোলাম কাওসারের স্ত্রী দেলোয়ারা বুলবুলি বলেন, ‘আমাদের দুই মেয়ে। বিয়ে দেওয়ার পর তারা মেহেরপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকে। আমি স্বামীর চাকরি সূত্রে এখানে থাকি। আমাদের একাকিত্ব সময়ে হরিণ শাবকটি ঘিরে মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি। একসময় এটাকে বনে ফিরিয়ে দিতে হবে, এমনটা ভাবতেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। ও কি ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে? ফিরে পাবে জন্মদাত্রী মাকে? নাকি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হবে? অথবা শিকারির খাদ্যে পরিণত হবে?’



সাতদিনের সেরা