kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

পরীর রাজ্যে ভূতের রাজত্ব

শাহপরীর দ্বীপ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ (কক্সবাজার)   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীর রাজ্যে ভূতের রাজত্ব

কক্সবাজারের টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক কাদাপানিতে একাকার। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। ২০১২ সালে দ্বীপের বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে শাহপরীর দ্বীপ থেকে হারিয়াখালি পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক বিলীন হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০১৮ সালে একনেকের সভায় ৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। কাজ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে কে এন্টারপ্রাইজ শুরু থেকে ঢিলেঢালাভাবে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে। চলতি মাসে সড়কের পুরো কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এত দিনে অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি তারা। এখন কাজ শেষ করতে আরো এক বছর সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহপরীর দ্বীপ বড়খাল নামক জায়গায় একটি বড় ব্রিজ নির্মাণের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। খালের ওপর জনসাধারণের চলাচলের জন্য সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন একটি ড্রাম সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন, যা দুর্ভোগের অনেকটা লাঘব করেছে। এ ছাড়া ওই সেতুর আগে ও পরে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজের সাববেজ ও কম্পেকশনের কাজ শুরু হয়নি এখনো। ওই দেড় কিলোমিটার পথ এতই বেহাল যে সেখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া দায়। বৃষ্টি হলেই সড়কের ওই অংশ কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন দেখে বোঝার উপায় থাকে না যে এটি সড়ক না চাষের জমি!

দ্বীপবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে কাজে মনোযোগী ছিল না। শেষ মুহূর্তে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে চেয়েছে। সড়কের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গাইডওয়াল নির্মাণ ও অন্যান্য কাজে অদক্ষ রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, ‘গত ৯ বছর পর্যন্ত দ্বীপের বাসিন্দাদের এ সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ২০১৮ সালে একনেক সড়ক সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দিলেও প্রায় দুই বছরের বেশি সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসী বর্ষাকালে অন্তত হেঁটে চলাচলের জন্য আপাতত ইটের খোয়া বসিয়ে সাববেজ ও কম্পেকশন শেষ করার দাবি করেছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বই দেয়নি। আগে থেকে গুরুত্ব দিলে বর্ষার আগে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের সাববেজ শেষ করতে পারতেন।’

স্থানীয় কলেজছাত্র ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ এখনো কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল। সেখান দিয়ে নারী, শিশু, রোগী ও বৃদ্ধদের যাতায়াত অনেকটা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’

সড়ক সংস্কারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল জব্বার চৌধুরী বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপের মানুষের কষ্টের চিত্র আমি নিজেই দেখেছি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের মধ্যে বড় খালের এপার-ওপারে প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক সাববেজ হয়ে গেছে। বাকি অংশটুকুতে বৃষ্টির জন্য কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য।’

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দিয়েছি। বর্ষায় যেন জনগণের দুর্ভোগ না বাড়ে সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান  জানিয়েছি। আসন্ন বর্ষায় দ্বীপের মানুষের কিছুটা কষ্ট হবে। তবে আগামী ডিসেম্বরের আগেই আমরা কাজটি শেষ করতে চেষ্টা করছি।’



সাতদিনের সেরা