kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

সীমান্তে দুই দেশ মিলে একাকার

মাহাবুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর)   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীমান্তে দুই দেশ মিলে একাকার

ভারতীয় সীমন্তবর্তী দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মানুষের অবাধ চলাফেরার কারণে এমনটি হচ্ছে। এই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন ভারতীয়দের সঙ্গে অনেকটাই মিলেমিশে বসবাস করছে। তারা ইচ্ছেমতো ভারতে প্রবেশ করছে, আবার ভারতীয়রা বাংলাদেশে আসছে। এ কারণে চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই বিরামপুর উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

সরকার এরই মধ্যে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা, ভিনদেশিদের শরীরের তাপমাত্রা মাপাসহ নানা কর্মসূচি নিলেও—ওই এলাকার মানুষ এগুলো মানছে না। এই এলাকার অনেকের করোনাভাইরাসের সম্পর্কে কোনো ধারণাও নেই। ফলে সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সীমান্তঘেঁষা। এই ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমান্তের নজরদারির জন্য রয়েছে পাঁচটি বিজিবি ক্যাম্প। এর মধ্যে বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে প্রায় উন্মুক্ত। শুধু একটি নালা, খাল কিংবা সীমান্ত পিলার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পার্থক্যের চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। গ্রামগুলোর ভারতীয় অংশে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। এই কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভারতীয় মানুষ বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষ ভারতে অবাধে প্রবেশ করছে।

সীমান্তে ভারতীয় অংশের গ্রামগুলো হলো উচাগোবিন্দপুর, কোঁচপাড়া, নিচা গোবিন্দপুর, জামালপুর, ছিরামপুর, ভীমপুর, হামলাকুড়ি, কৌতাড়া ও চাপড়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশের গ্রামগুলো হলো চৌঘরিয়া, দক্ষিণ দামোদরপুর, গোবিন্দপুর, দক্ষিণ দাউদপুর, পলিখিয়ার মামুদপুর, খিয়ারমামুদপুর, ভাইগড়, হামলাকুড়ি, খিয়ারদুর্গাপুর ও চাপড়া।

সরেজমিন গত রবিবার উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাউদপুর ও গোবিন্দপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ ভারতে ও ভারতের মানুষ বাংলাদেশে অবাধে প্রবেশ করছে।

সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে বিজিবির সীমান্তরক্ষা পোস্ট মাত্র ১০০ গজ দূরে। আর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পোস্ট রয়েছে কাটাতাঁরের বেড়ার ওপারে। দক্ষিণ দাউদপুরের একেবারে সীমান্তঘেঁষে ভারতের অভ্যন্তরে নামাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে মসজিদ। সেখানে উভয় দেশের মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করছে।

স্থানীয়রা জানায়, এসব এলাকার অনেক বাংলাদেশি ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এবং ভারতীয়রা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভারতের অনেক ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবে বিরামপুর উপজেলায় সর্বমোট ৩৭৫ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এক দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ২৩ জন। এটি করোনার শুরু থেকে সর্বোচ্চ শনাক্ত বলে জানা গেছে। তা ছাড়া গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা গেছে চারজন করোনা রোগী। এ নিয়ে এই এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহারিয়ার ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে করোনা সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে। তা ছাড়াও এলাকার মানুষ চলাফেরায় অনেক উদাসীন। তবে করোনা থেকে নিরাপদে থাকতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি তাঁদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।’

জানতে চাইলে ফুলবাড়ী-২৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল শরিফ উল্লাহ আবেদ বলেন, ‘বিরামপুর সীমান্ত এলাকাটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ওই সব এলাকা দিয়ে কোনো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।’



সাতদিনের সেরা