kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

শরণখোলায় ইয়াসে ভাঙা বাঁধ

ডুবছে জাগছে ঘর

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডুবছে জাগছে ঘর

বাগেরহাটের শরণখোলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে ইয়াসে ভেঙে যাওয়া বাঁধ দিয়ে গতকাল ঢুকছে জোয়ারের পানি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গেছে রিং বেড়িবাঁধ। ভাঙন থেকে সোজা ১০০ ফুট দূরেই জেলে মিরাজ তালুকদারের (৪৫) বসতঘর। ওই ভাঙন থেকে হু হু করে পানি গিয়ে ঢোকে তার ঘরে। জোয়ারের সময় ঘরে কোমর সমান পানি, আবার নেমে যায় ভাটায়। প্রতিদিন দুইবার জোয়ার-ভাটার সঙ্গে লড়াই করে টিকতে না পেরে তিনি আশ্রয় নেন পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে। স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে ২০ দিনেও ঘরে ফিরতে পারেননি মিরাজ।

মিরাজের মতো ঘরছাড়া না হলেও চরম দুর্ভোগে রয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনলাগোয়া তিন গ্রামের চার শতাধিক পরিবার। মূল বেড়িবাঁধের বাইরে দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া, পূর্ব খুড়িয়াখালী ও শরণখোলার চরাঞ্চলের এসব পরিবারে ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পর থেকে।

মূল বাঁধের বাইরের বগী-শরণখোলা ভারানী খালের পারে রিং বেড়িবাঁধটি গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ভেঙে যাওয়ার পর সেটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয়। সেই বাঁধটি আবার গত ২৬ মে ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যায়। ওই ভাঙন থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে শত শত ঘরবাড়ি-পুকুর প্লাবিত হচ্ছে প্রতিদিন। প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমিতে নোনা পানি জমে আছে। চাষাবাদের মৌসুম শুরু হলেও তা করতে পারছেন না চাষিরা।

দুর্ভোগে পড়া দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া গ্রামের জোহরা বেগম (৭০), রেনু বেগম (৫৫), মনির তালুকদার (৫০), দেলায়ার আকন (৫২), পূর্ব খুড়িয়াখালী গ্রামের নূপুর বেগম (২৮) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের খোঁজ কেউ নেয় না। শুধু ভোটের সময় লাগে তাঁদের।

সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাঁধটি মেরামতে টেস্ট রিলিফ (টিআর) থেকে একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ভেঙে যাওয়া রিং বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।