kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

প্রতিবাদী দুই ছাত্রকে পেটালেন কর্মচারীরা

রংপুর মেডিক্যালে ৩০ টাকার ভর্তি ফি ১০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবাদী দুই ছাত্রকে পেটালেন কর্মচারীরা

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ মায়ের সামনেই দুই ছেলেকে পিটিয়েছেন কর্মচারীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

অনিয়ম-দুর্নীতির চরম শিখরে পৌঁছেছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানা সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মচারী থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। এবার কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করাতে এসে কর্মচারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ভাই। রোগী ভর্তি ফি ৩০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় অসুস্থ মায়ের সামনেই দুই ভাই রাশেদ ও রেজাউলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী। গত শুক্রবার রাতের ওই ঘটনায় আহত দুই ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো কর্মচারী ও তাঁদের নেতারা মুখ খুলছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ করিম ও রেজাউল করিম। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাশেদ করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আর তাঁর বড় ভাই রেজাউল করিম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁদের মা রহিমা বেগম কিডনি রোগী। সপ্তাহে তিন দিন তাঁকে হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতে হয়। বাড়িতে হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মাকে নিয়ে আসেন দুই ভাই। এরপর ভর্তি করার জন্য জরুরি বিভাগে টিকিট নিতে যান। টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। কিন্তু কর্তব্যরত কর্মচারীকে ১০০ টাকার নোট দিলে পুরো টাকাই তিনি রেখে দেন। এর প্রতিবাদ করার সঙ্গে সঙ্গে ওই কর্মচারী রাশেদকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এ সময় জরুরি বিভাগে থাকা অন্য কর্মচারীরা একযোগে রাশেদের ওপর হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ অবস্থায় বড় ভাই রেজাউল এগিয়ে এলে দুই ভাইকে অমানসিকভাবে মারধর করে আহত করা হয়। এরপর জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় তাঁদের। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালের ১৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তাঁরা।

এদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন তাঁরা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী জানান, বিষয়টি শোনার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, তদন্তে হাসপাতালের কর্মচারীরা দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা