kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

উন্মুক্ত সীমান্তে অবাধ চলাচল

কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছেই

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্মুক্ত সীমান্তে অবাধ চলাচল

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের গোরস্থানপাড়া সীমান্ত এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদী পার হয়ে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় কৃষক নরেন মণ্ডল। গত বৃহস্পতিবারের চিত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে গোপনে বাংলাদেশিদের ভারতে যাতায়াত বেড়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকাসহ দেশের অভ্যন্তরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।

তবে সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অবৈধ প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৪৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

উন্মুক্ত সীমান্তের বাইরেও কয়েকটি জায়গায় ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার নিচ দিয়ে অনেকেই চলাচল করছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত এলাকার মানুষ।

সরেজমিনে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ থেকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। এরপর নদীবেষ্টিত চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর পর্যন্ত স্থলভূমিতে কোনো কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় প্রায় ২০ কিলোমিটার সীমান্ত উম্মুক্ত রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বর্তমানে বৈধপথে ভারতে যাওয়া-আসা কঠোর হওয়ায় মানুষজন প্রতিদিনই দৌলতপুর উপজেলার এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে গোপনে অবৈধভাবে দেশে আসছে।

সীমান্ত এলাকার মানুষজন জানায়, রোজার ঈদের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত বেশ কিছু বাংলাদেশি দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরা সবাই দৌলতপুর সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে কেরালা থেকে চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশকালে রামকৃষ্ণপুরের মোহাম্মদপুর সীমান্তে বিজিবি বিদুছ মণ্ডল নামের একজনকে আটক করে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন পাকুড়িয়া ভাঙাপাড়ার ইছাহক আলীর ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (৩০), মুন্সীগঞ্জের শুকুর আলীর ছেলে মতিউর রহমান মতি (২৭), মহিষকুণ্ডি মাঠপাড়ার আসাদের ছেলে কালু (২৬), শাজাহানের ছেলে লিটনসহ (২৫) প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি গোপনে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

সীমান্তের মহিষকুণ্ডি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আমাদের চোখে পড়লেও পুলিশের কোনো নজরদারি চোখে পড়েনি।’

কুষ্টিয়ার শেষ সীমান্ত এলাকা উদয়নগরের বাসিন্দা স্বাস্থ্যকর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘করোনাকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া অনেক মানুষ গোপনে সীমান্ত পার হয়ে দেশে আসছে। এতে আমরা অবশ্যই করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছি।’

সীমান্তসংলগ্ন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ‘চোরাপথে অবাধে বাংলাদেশিদের যাতায়াতের সুযোগ নেই। তবে মাদক চোরাকারবারিদের অবাধ যাতায়াত ও মাদকপাচার কারবার আগের মতোই চলমান আছে।’

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রাগপুর ইউনিয়নের গোরস্থানপাড়া সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীর পারে কথা হয় ভারতীয় কৃষক নরেন মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানান, বিএসএফের কাছে আইডি কার্ড জমা দিয়ে এপারে জমিতে কাজ করতে এসেছেন। কাজ শেষে নদীতে নেমে বাংলাদেশি কৃষকদের সঙ্গে গোসল করে ওপারে চলে গেছেন তিনি। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কৃষক রহমত আলী বলেন, ‘এ আমাদের নিত্যদিনের কাজ। ওসব করোনা-ফরোনা আমাদের হবে না। করোনার ভয় করে কাজ বন্ধ রাখব নাকি!’

দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবির পাশাপাশি আমরাও সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছি।’ কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় কুষ্টিয়াতে ১৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে পাঁচজন। মে মাসজুড়ে কুষ্টিয়াতে সংক্রমণের হার ছিল ১০ শতাংশ। তবে গত ১০ দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশে। এভাবে শনাক্তের হার বাড়তে থাকলে আমাদের খুব বিপদে পড়তে হবে। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’



সাতদিনের সেরা