kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ঘরের দায়িত্বে ইউএনও প্রতারণায় শ্যালক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘরের দায়িত্বে ইউএনও প্রতারণায় শ্যালক

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা দুজনকে আটক করলেও একজন পালিয়ে যান। আরেকজনকে পুলিশে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, পালিয়ে যাওয়া তানবিন হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শ্যালক। তবে তানবিনের সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে তাঁরা পুলিশে দিয়েছেন। এ ঘটনায় গত বুধবার সাইদুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী মামলা করলেও তানবিনকে আসামি করা হয়নি।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে হরিপুর উপজেলায় ৯৩৬টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ঘরপ্রতি নির্মাণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী, ইউএনও নিজেই প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেবেন। এরই মধ্যে ৫৩৬টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৪০০ ঘরের কাজ চলছে।

ভুক্তভোগী বঞ্চিত মানুষরা জানান, ঘর নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ইউএনও আব্দুল করিমের শ্যালক তানবিন হাসান। ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের অনেকের কাছ থেকে ১৫-২০ এবং ৩০ হাজার টাকা করে কয়েক লাখ টাকা তুলেছেন তানবিন ও তাঁর সহযোগী আজাদ। কিন্তু তালিকায় নাম না ওঠায় গত মঙ্গলবার রাতে তানবিন ও আজাদকে রামপুর গ্রামে আটকে রাখেন ভুক্তভোগীরা। এক পর্যায়ে তানবিন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে আজাদকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

জহুরা খাতুন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, সরকারি ঘর নেওয়ার জন্য তিনি জমি বিক্রয় করে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। সফিউর রহমান নামের আরেকজন বলেন, তিনি গরু বিক্রয় করে ২৪ হাজার টাকা দিয়েছেন আজাদের হাতে।

ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তানবিন দীর্ঘদিন ধরে ইউএনও সাহেবের বাড়িতেই রয়েছেন।’

আটক থাকার সময় আবুল কালাম আজাদ স্বীকার করেন যে ইউএনওর শ্যালক তানবিন ও তিনি টাকা নিয়েছেন।

আজাদের মা রহিমা বলেন, ‘ইউএনওর শ্যালককে বাদ দিয়ে তাঁর ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

হরিপুর থানা ওসি এস এম আওরঙ্গজেব জানান, মামলায় ইউএনওর শ্যালক ঘটনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

হরিপুরের ইউএনও আব্দুল করিম বলেন, ‘কোনো প্রকার আর্থিক অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অপরাধী কে সেটি তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও আদালত ব্যবস্থা নেবে।’