kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

পাটগ্রাম

ভঙ্গুর স্বাস্থ্য সেবা

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাফিউল ইসলাম প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণি প্রধানের ছেলে তিনি। পেটের ব্যথা নিয়ে গত দুই দিন ধরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অথচ কোনো চিকিৎসকই তাঁকে দেখতে আসেননি।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ক্ষোভের সঙ্গে সাফিউল ইসলাম বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, না গোয়ালঘর বোঝা যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আরো কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। চিকিৎসকরা সময়মতো দেখতে আসেন না। তাঁরা বাইরে চেম্বারে ব্যস্ত থাকেন। এখানে সব ধরনের ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায় না। খাবারও নিম্নমানের। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে থাকতে হয়। মোট কথা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই ভঙ্গুর।

রেনু বেগম বলেন, ‘গত ২১ তারিখে ভর্তি হয়েছি। শুধু দুইটা ট্যাবলেট দিয়েছে। তিন দিন আগে চিকিৎসক এসে ইনজেকশন দিতে বলেছেন। বাইরে থেকে কিনে আনার পর নার্স জানান, সিরিঞ্জ নাই। সিরিঞ্জ কিনে এনেও তিন দিন হলো ইনজেকশন দেওয়া হয়নি।’ অন্যদিকে ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কি মানুষ না? আমরা কেন সুচিকিৎসা পাব না?’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকাল ১১টায় রাউন্ড দিই। যে রোগী বলেছে চিকিৎসা হচ্ছে না, তাঁর বেড নম্বরসহ নিউজ করেন। সমস্যা নাই, আমরা দেখব।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের দাবি, ‘চিকিৎসকরা ঠিক সময়ে রোগী দেখেন।’ তিনি বলেন, ‘কারো চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে আমাদের লিখিতভাবে জানালে তদন্ত করে দেখব।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক আছেন। যথারীতি দায়িত্ব পালন করছেন। সব ধরনের ওষুধও আছে। বিরল কিছু ওষুধ হয়তো বাইরে থেকে কিনতে হতে পারে।’



সাতদিনের সেরা