kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে

খুরশিদ আলম

বাগেরহাটের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) প্রভাবশালী নেতা কাজী খুরশিদ আলম পল্টু। বন্দরের হারবার ও কনজারভেন্সি বিভাগে শিপ মুভমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত আছেন। সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এই নেতা চাকরিরত অবস্থায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগের সত্যতাও পায় বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সাবেক সিবিএ নেতা পল্টুর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এর আগে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর তাঁর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতালিতে অবস্থান করেন পল্টু। সেখানে ১২৪ দিন থাকার পর দেশে ফিরে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি গোপন করে অসুস্থতার ভুয়া মেডিক্যাল সনদপত্র দেখিয়ে আবার চাকরিতে ফেরেন। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা চার মাসেরও অধিক সময়ের বেতন-ভাতাও তোলেন তিনি। এ নিয়ে বন্দর এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের দাবি ওঠে।

এর মধ্যেই তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতা বনে যান। নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। নেতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন বন্দর ব্যবহারকারী হাবিবুর রহমান। তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইফুল ইসলাম ঘটনাটি তদন্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্কালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শাহজাহানকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে চেয়ারম্যান শাহজাহান ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের উপপরিকল্পনা প্রধান শেখ মাসুদউল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়ে গত ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী খুরশিদ আলম পল্টু বলেন, ‘আমার যা বলার তা কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছি।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্কালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শাহজাহান তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম বন্দরে বদলি হয়ে এসেছি। বর্তমানে দায়িত্বরত চেয়ারম্যানই ব্যবস্থা নেবেন।’ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, ‘পল্টুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।’