kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

গরিবের ঈদের টাকা গায়েব

ঝিকরগাছায় ভিজিএফ বিতরণে দুর্নীতি

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে অসচ্ছল পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় প্রবাসী, এক নাম একাধিকবার, নাম আছে অথচ টাকা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা পকেটে টাকা ভরেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫৯ হাজার ৭৬৫ জনকে দুই কোটি ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা দেওয়া হয়।  বেশির ভাগ ইউনিয়নে ঈদের আগের দিন এ টাকা বিতরণ করা হয়। টাকা বিতরণ তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাসখোলা ইউনিয়নের কানাইরালী গ্রামের তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে ৪২০ জনের। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (ত্রাণ) কার্যালয়ে জমা দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, ৪২০ জনের তালিকায় অন্তত ১১২ জনের নাম দুইবার বসানো হয়েছে। তবে নাম, বাবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ঠিক থাকলেও অধিকাংশের মোবাইল নম্বর মনগড়া দেওয়া হয়েছে।

মেম্বার হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর ওয়ার্ডে ৩৮৫ জনকে তিনি এবং চেয়ারম্যান ৩৫ জনকে ভিজিএফের টাকা দিয়েছেন। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তালিকায় ১১২ জনের নাম দুইবার বসানোর বিষয়টি ওপরের মহলের কাজ হতে পারে বলে দাবি করেন। নির্বাসখোলা ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ১১২টি বরাদ্দের তালিকায় শেষ ৬১২টি কার্ডের নাম দুইবার ব্যবহার করা হয়েছে।

নাভারণ ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ছয় হাজার ৬১৯টি। এ ইউনিয়নের কলাগাছি ও উত্তর দেউলি গ্রামের তালিকায় অন্তত শতাধিক ব্যক্তির নাম দুইবার ব্যবহার করা হয়েছে। একাধিক প্রবাসীর নামও পাওয়া গেছে। এ গ্রামের ৪১৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মহিনুর, ৪৮০ রিপন, ৪৭৮০ আরিফ বিদেশ থাকেন। তাঁদের নামেও টাকা ওঠানো হয়েছে। ৪৯৮ নম্বরে থাকা আরেক প্রবাসী মিলনের নাম দুইবার তালিকায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে তালিকার ৩১৭ নম্বরে থাকা উত্তর দেওলী গ্রামের রাজন জানান, নাম থাকলেও তিনি টাকা পাননি। এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সোলাইমান হোসেন জানান, তিনি ৪০০ লোকের তালিকা দিয়েছেন। তবে শীর্ষ জনপ্রতিনিধিরা ফের নাম দেওয়ায় দুইবার হতে পারে।

নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সময় না থাকায় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ডাবলিং সমস্যা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম জানান, ভিজিএফের টাকা বিতরণ তালিকায় এক নাম একাধিক ব্যবহার করার সুযোগ নেই। যদি এ জাতীয় কাজ কোনো জনপ্রতিনিধি করেন তাহলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।