kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

করোনার ভারতীয় ধরন

দুশ্চিন্তার কারণ ইন্ডিয়াপাড়া

শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর)   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুশ্চিন্তার কারণ ইন্ডিয়াপাড়া

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামের মধ্যে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ইন্ডিয়াপাড়া। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর তিন পাশে বাংলাদেশ আর এক পাশে ভারত। এই দেশের মানুষের সঙ্গে ইন্ডিয়াপাড়ার বাসিন্দাদের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক।

কোনো সীমারেখা তাদের চলাফেরা, লেনদেন ও সামাজিক বন্ধনে বাদ সাধতে পারে না। সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে অবাধ চলাচল। ইন্ডিয়াপাড়ার বাসিন্দারা বাগদাবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকাতে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এলাকাবাসী ইন্ডিয়াপাড়ার চারপাশে সীমান্তরক্ষীদের টহল আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম দৌলতপুর। গ্রামটি ভারতঘেঁষা। দৌলতপুর গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে ভারত থেকে একটি সড়ক প্রবেশ করেছে গ্রামটির মধ্যে। এই গ্রামের একটি অংশে বসবাস করে ভারতীয় নাগরিকরা, যা ইন্ডিয়াপাড়া বলে পরিচিত। এখানে ৮০-৮৫টি পরিবার রয়েছে। জনসংখ্যা দেড় শতাধিক। ইন্ডিয়াপাড়ার বাসিন্দারা ভারতের নাগরিক হলেও অবাধে বাংলাদেশ অংশে যাতায়াত করে।

সম্প্রতি সরেজমিন দৌলতপুর গ্রামে গিয়ে অবাধ যাতায়াতের প্রমাণও মিলেছে। সীমান্তবর্তী ৪৩ নম্বর পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশ অংশের সড়কে বাইসাইকেল চালাতে দেখা যায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ইন্ডিয়াপাড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেমকে। তিনি মুখে মাস্ক না পরেই ঘোরাফেরা করছেন।

এ সময় কথা হয় আবুল কাশেমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কয়েক যুগ ধরে ইন্ডিয়াপাড়াতে বসবাস করছি। কেনাকাটা করতে যাই নিজ দেশের (ভারত) বাগদাবাজারে। করোনার কারণে আমরা বাগদাবাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘জমিজায়গা সব ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশে অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে। ছোটবেলা থেকেই এভাবেই চলাচল করি।’

দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, রহিমা বেগম জানান, তাঁরা শুনেছেন বাগদাবাজারসহ সীমান্তঘেঁষা গ্রামেও করোনা ছড়িয়েছে। ফলে ইন্ডিয়াপাড়াতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, বাগদাবাজার এলাকার আশপাশের গ্রামে তাঁদের আত্মীয়-স্বজন আছে।

দৌলতপুরের পাশের গ্রাম বড় আন্দুলিয়ার বাসিন্দা কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, দৌলতপুর ও ইন্ডিয়াপাড়ার পাশে তাঁদের জমি আছে। প্রতিদিনই আসতে হয় কাজে। ইন্ডিয়াপাড়ার লোকজনের অবাধ চলাচলে তাঁরা বেশ চিন্তিত। ভারতের মতো এই এলাকাতেও যেকোনো সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় ইন্ডিয়াপাড়ার পাশে সীমান্তরক্ষীদের টহল আরো জোরদার করার দাবি জানান তিনি।

সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা তোতা মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মধ্যেই ভারতের একটি ছোট গ্রাম রয়েছে। করোনার নিউ ভেরিয়েন্ট নিয়ে আমরা চিন্তিত। ইন্ডিয়াপাড়ার লোকজনকে নিজ পাড়া থেকে বাইরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দৌলতপুর গ্রামবাসীকেও তাদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

আন্দুলিয়া বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ক্যাম্পের সুবেদার মো. শাহীনুর রহমান বলেন, ‘করোনার নিউ ভেরিয়েন্টের বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এরই মধ্যে দৌলতপুর গ্রাম এলাকাতে আমরা টহল জোরদার করেছি। ইন্ডিয়াপাড়ার লোকজনকে কোনো ক্রমেই আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’



সাতদিনের সেরা