kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

আ. লীগ নেতার কারণে ৭০০০ দুস্থের ঈদ মাটি

নান্দাইলে সরকারি সহায়তায় আ. লীগ নেতার থাবা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ নেতার কারণে ৭০০০ দুস্থের ঈদ মাটি

‘আমরার টেহা লইয়া তারা মাতব্বরি করছে। আর আমরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এর বিচার কেলা করবো?’ ঈদের আগে সরকারি সহায়তা না পেয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হতদরিদ্র এ কথা বলেন। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরকারি সহায়তায় ভাগ বসানোর চেষ্টা করায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেই তালিকা অনুমোদন করেননি। এ কারণে সাত হাজার ৩৮ ও জিআরের ৫০০ হতদরিদ্র মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঈদ উপলক্ষে ১৩ ইউনিয়নের ৭২ হাজার ৪১১ জন হতদরিদ্রকে মানবিক সহায়তা হিসাবে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়। এ হিসাবে প্রত্যেকের ৪৫০ টাকা করে পাওয়ার কথা। এ ছাড়া রয়েছে জিআরের ৫০০ জনের জন্য ৫০০ টাকা করে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে বরাদ্দ বিতরণ করা হলেও চণ্ডীপাশা ইউনিয়নে তা করা সম্ভব হয়নি। তবে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পরিষদের তালিকা ও সরকারি দলের নেতাদের তালিকা সমন্বয় না হওয়ায় মানবিক সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে জানার জন্য চণ্ডীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে ঈদের দুই দিন আগ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। গতকাল রবিবার বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইউপি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম গোলাপ জানান, এ নিয়ে তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে বরাদ্দ বিতরণের জন্য সব প্রস্তুত ছিল। বিতরণ না হওয়ায় ভিজিএফের মোট ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ টাকা এবং জিআরের আড়াই লাখ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়া হয়েছে।

চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, ‘সব ইউনিয়নে দলীয় লোকদের জন্য একটা অংশ রেখে চেয়ারম্যানরা তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন। এ ক্ষেত্রে শুধু চণ্ডীপাশা ব্যতিক্রম। তিনি একগুঁয়েমি করে এ কাজটি করেছেন। তাঁর কারণেই অসহায় হতদরিদ্র লোকজন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির তদারককারী উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শেখ মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, সেটিতে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর ছিল না। তাই আমি ওই তালিকায় প্রতিস্বাক্ষর করিনি।’

উপজেলা মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘মানবিক কারণে হলেও ঈদের আগে বরাদ্দ বিতরণ করা প্রয়োজন ছিল। এটা অমানবিক হয়েছে।’