kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

সরকারি জলাশয় পুনঃখননে অনিয়ম

৩০ দিনের কাজ শেষ হয়নি ৬০ দিনেও

ফরিদপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফরিদপুরের সালথায় সরকারি দুটি জলাশয় পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি খননকাজ শুরু করেন প্রকল্প সভাপতি সালাউদ্দিন খান পান্নু। গত ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু গত রবিবার পর্যন্ত কাজ শেষ করা হয়নি। ফলে প্রকল্পের সফলতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের (দ্বিতীয় সংশোধিত) আওতায় মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া হাজিবাড়ি থেকে সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা পর্যন্ত চান্দাখোলা বারোপিট খাল পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কাগদী বাঁওড়ের কিছু অংশ পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাত্র একটি ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খননকাজ করা হচ্ছে। কাজের সময় প্রকল্প সভাপতি বা তদারকি কর্মকর্তারা কেউই উপস্থিত থাকেন না। খাল তিন ফুট গভীর করে কাটার কথা থাকলেও মাত্র এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে কাটা হচ্ছে। আবার খালের অনেক স্থানে খননই করা হচ্ছে না। এ ছাড়া মাটি কেটে খালপারেই রাখা হচ্ছে। এতে বৃষ্টি হলে মাটি ধসে সেই খালেই পড়বে। কাগদী বাঁওড় খননের কাজেও একই চিত্র দেখা গেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে সালাউদ্দীন খান এই অনিয়ম করছেন। অনেক দিন ধরেই তিনি প্রভাবশালী আত্মীয়ের মাধ্যমে লবিং করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন খাল ও বাঁওড় খননের প্রকল্প এনে লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ।

অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রকল্প সভাপতি সালাউদ্দীন খান বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিকরা) আমার ভাই-ব্রাদার। এ নিয়ে লেখালেখি করবেন কেন? আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করব।’

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায় বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে বিল দেওয়া হবে না। খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে যতটুকু গভীর করে কাটবে ততটুকুর বিল দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খাল ও বাঁওড় খননের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’