kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

কালিয়াকৈরে রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্প

বাড়ি বাড়ি চাঁদাবাজি

মাহবুব হাসান মেহেদী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ি বাড়ি চাঁদাবাজি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইছুটিতে কাজ না করেই রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের বড়ইছুটি গ্রামে রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল লাখ টাকা। এর পরও রাস্তা বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতিটি বাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে। শেষে কাজ না করে সব টাকা মিলেমিশে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সচিব, সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মুসলেমের বাড়ি থেকে ফজল হকের বাড়ি অভিমুখে প্রকল্প নামে কাঁচা রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজ আসে। স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর (১ শতাংশ) অর্থায়নে এক লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের ওই কাঁচা রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের কথা। কিন্তু বাস্তবায়নকাল ২০১৯-২০ অর্থবছর দেখিয়ে নেম প্লেট দিলেও রাস্তার কাজ হয়নি আজও।

ওই প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য এস এম আশরাফুল ইসলাম, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গণি ও সচিব আনোয়ার হোসেন। তাঁরাসহ স্থানীয় ওয়ার্ড  আওয়ামী লীগের সদস্য জামাল উদ্দিন মিলে বরাদ্দের টাকা তোলার পর ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এরপর ইউপি সদস্য আশরাফুল ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল দুজনে রাস্তা করার কথা বলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে টাকা তোলেন। ওই টাকাও তাঁরা ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই রাস্তার কাজ হয়নি। এতে স্থানীয় লোকজন তাদের ৩০০ টাকা করে ফেরত চায়। পরে বাধ্য হয়ে দু-তিন মাস আগে ইউপি সদস্য আশরাফুল এক জায়গায় অল্প কিছু মাটি ফেলেন। রাস্তার বেশির ভাগ অংশে রয়েছে পানি নেওয়ার ড্রেন, বাঁশঝাড়, বিভিন্ন আগাছা। স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের দেওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানায়।

স্থানীয় রমজান বেগম বলেন, ‘শুনেছি, রাস্তার কাজ আইছে। কাজ করার কথা কইয়া মেম্বার আশরাফুল ও নেতা জামাল আমাগো কাছ থেকে বাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু কই, রাস্তার কাজ তো করল না, আমাগো টাকাও ফেরত দিল না’।

ফজল হক ও তাঁর স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন, ‘আমাগো বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা করার কথা ছিল; কিন্তু রাস্তা করা হয়নি। ফলে অনেক কষ্টে আমাদের যাতায়াত করতে হইতাছে। ধান ভাঙানোসহ কোনো কাজই ওই রাস্তা দিয়ে করা যায় না।’

ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনিছ বলেন, ‘মেম্বার ও জামাল রাস্তার কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু তারা টাকা কেটে নিছে কি না জানি না। তবে তাদের কাছে রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে আগামী বছর কাজ করা হবে।’

ইউপি সদস্য এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যা নেই। ঈদ মোবারক জানাবনি।’ তবে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তার কথা বলে আমি টাকা তুলিনি, মেম্বার তুললে তিনিই জরিমানা দেবেন। আমি রাস্তা করার কেউ না, মেম্বার আমার মামা লাগে। তাই তাঁর সঙ্গে রাস্তার কাজ করেছি।’

অভিযুক্ত সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গণি বলেন, ‘রোজার ঈদের পরে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’