kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

নদী দিয়ে ‘বইছে’ সড়ক

বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী ভরাট করে চলছে রাস্তা নির্মাণ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নদী দিয়ে ‘বইছে’ সড়ক

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খাগা দক্ষিণপাড়া এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে করতোয়া নদী ভরাটের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।  ছবি : কালের কণ্ঠবগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী ভরাট করে বানানো হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মাণাধীন ওই সড়কের ২৫ থেকে ৩০ ফুটের মধ্যেই নদীর তলদেশে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। আর সেই বালু দিয়েই ভরাট করা হচ্ছে নদীর তীর। এই অবস্থায় নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।

তাদের অভিযোগ, করতোয়া নদীর তীর ভরাট কাজে পাশেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলায় বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এমনকি সেই পানির চাপে সড়কটিও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। আর এই অভিনব সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে করতোয়া নদী ঘেঁষা শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা দক্ষিণপাড়া এলাকায়।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক কানেক্টিভিটি (আইসিআইপি) প্রকল্পের আওতায় জাপান সরকারের অর্থায়নে এই উপজেলার মির্জাপুর ভিমজানী থেকে শুভলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আতাউর রহমান খান লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান এই সড়ক নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া সড়কটির খাগা দক্ষিণপাড়া অংশে করতোয়ায় বিলীন হয়ে যাওয়া দেড় শ মিটার তীর ভরাট করে সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর তীর ভরাট করে সড়ক বানানো হচ্ছে। এ জন্য বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। সড়কটির পাশেই নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে তিনটি ড্রেজার মেশিন। এসব মেশিনের মাধ্যমে দিন-রাত সমানতালে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। আর সেই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে তীর ভরাট ও সড়ক নির্মাণ কাজে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নবনির্মাণাধীন সড়কসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। অথচ স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি দেখেও রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করে বসে আছেন।

বুলবুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, সড়কটি নির্মাণের জন্য প্রথমে সড়কের দুই পাশের ফসলি জমির মাটি কাটা হয়। এতে বড় বড় গর্ত ও খাল তৈরি হয়েছে। আর এখন পাশেই ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার মাধ্যমে নদীর তীর ভরাট করা হচ্ছে। এভাবে তৈরি করা সড়কটি কত দিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

খানপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘অনেক চেষ্টা ও তদবিরের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে আশার আলো জেগেছে। তবে এর কাজের বিষয়ে তেমন কিছু জানি না।’

এদিকে এই সড়ক নির্মাণ কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. রায়হান বলেন, ‘প্রকল্পের যথাযথ নিয়ম মেনেই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর তীর রড দিয়ে পাইলিংয়ের পর ভরাট করা হচ্ছে। তাই বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে সড়কটি ধসে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘খানপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের পাশ থেকে কোনো বালু তোলা হচ্ছে না। নদীর তীর ভরাটের জন্য ঠিকাদারের আগে কেটে রাখা মাটি ফেলা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তাই খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’