kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

পঞ্চগড়

পাথরসাম্রাজ্য

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাথরসাম্রাজ্য

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভূতিপুকুর সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারের কঠোর নির্দেশনা আর জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়েছে বোমা মেশিন ব্যবহার করে ও মাটি খনন করে পাথর উত্তোলন। কিন্তু সম্প্রতি গোপনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভূতিপুকুর সীমান্ত এলাকায় পাথরসাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন মোসলিম উদ্দিন। ভজনপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তিনি। শতাধিক শ্রমিক দিয়ে নো ম্যানস ল্যান্ড ও সরকারি খাসজমি থেকে প্রভাব খাটিয়ে তুলছেন পাথর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূতিপুকুর সীমান্তের ভাঙ্গিপাড়া এলাকায় সীমানা পোলঘেঁষে নো ম্যানস ল্যান্ড ও খাসজমিতে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পাথর তুলছেন মোসলিম উদ্দিন। প্রতিদিন উঠছে ১৮ থেকে ২০ ট্রলি পাথর। শ্রমিকদের এক ট্রলি পাথর তুলতে বিল দেন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বাকি টাকা ঢোকে ওই বিএনপি নেতার পকেটে। দৈনিক এই পাথরসাম্র্রাজ্য থেকে তাঁর আয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। দিনদুপুরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে ফুলে-ফেঁপে উঠছেন তিনি। গ্রাম রক্ষা বাঁধ কেটেও তোলা হচ্ছে পাথর। সীমান্তের ওই জমিগুলো ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বাঁধ কেটে পাথর তোলায় বর্ষায় লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞ চললেও কাউকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, সীমান্তের ওই স্থানে পাথর তুলছেন শতাধিক শ্রমিক। চারপাশে পাথর তোলায় সীমান্তের সমতল জমি ক্ষতবিক্ষত হয়ে উঠেছে। সীমানা পোলঘেঁষা নো ম্যানস ল্যান্ড ও খাসজমিতে বড় বড় গর্ত করে চলছে পাথর তোলা। পাশে দাঁড়িয়ে তা তদারকি করছেন মোসলিম। গ্রাম রক্ষা বাঁধটিও ছাড় পায়নি। নির্বিচারে বাঁধ কেটেও তোলা হচ্ছে পাথর।

স্থানীয়রা জানায়, ওই জমিগুলো আগে স্থানীয়দের দখলে থাকলেও বর্তমানে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু ওই জমিতে দিনদুপুরে পাথর উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট কাউকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া পুলিশের দেখা পেলেই সটকে পড়েন তাঁরা। পুলিশ সরে গেলে আবারও শুরু হয় পাথর তোলার কাজ।

জুমের আলী নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘কাজ-কাম নাই। তাই এখানে পাথর তোলার কাজ করছি। সবাইকে ম্যানেজ করেই পাথর তোলা হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘মোসলিমের নির্দেশেই আমরা পাথর তুলছি। প্রতি ট্রলি পাথর তুলতে আমাদের মুসলিম মজুরি দেন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। আর মোসলেম প্রতি ট্রলি পাথর বিক্রি করেন আট হাজার টাকায়। লাভ হচ্ছে মোসলিমের। আমরা কেবল তুলে সামান্য কিছু পাচ্ছি।’

অভিযুক্ত মোসলিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের কাজ-কর্ম নেই। তাই তারা এখানে পাথর তুলছে। আমি তাদের কাছ থেকে পাথর কিনে নিচ্ছি মাত্র। এখানে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হলে মহানন্দা নদী থেকেও পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা ওই স্থানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যখন পুলিশ যায়, তারা সটকে পড়ে। আবার পুলিশ চলে গেলে আবারও পাথর তোলে। আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। তার পরও যদি পাথর উত্তোলন করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার আনিসুর রহমান বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।



সাতদিনের সেরা