kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

একটি আঙুলের দাম কত?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একটি আঙুলের দাম কত?

সরকারের দেওয়া ৪৫০ টাকা আনতে গিয়েছিলেন রিনা বেগম (৩৬)। কিন্তু একটি আঙুল হারাতে হয়েছে তাঁকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরের এই ঘটনার পর তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলিফ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শুক্রবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন, বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যরা তাঁকে দেখতে যান। এ সময় তাঁকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

রিনার ভাবি মরজিনা আক্তার জানান, রিনার সঙ্গে স্বামী ফজল মিয়ার বনিবনা নেই ছয়-সাত বছর ধরে। এরপর থেকে তিনি এক সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। করোনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার ৪৫০ টাকা আনতে বৃহস্পতিবার তিনি ইউনিয়ন পরিষদে যান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে কেউ রিনাকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজার পড়েন। এ সময় দায়িত্বরত একজন দরজা আটকে দিলে ডান হাত তাতে আটকে যায়। এতে একটি আঙুল কাটা পড়ে ও আরেকটি আঙুলেরও অনেক ক্ষতি হয়।

রিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘দায়িত্বরত এক চৌকিদার দরজা আটকে দেন। এ সময় আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও ওই চৌকিদার দরজা খোলেননি। দরজায় আটকে আঙুল কাটা পড়লে সেটি ওই চৌকিদার ছুড়ে ফেলে দেন।’

হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সারওয়ার রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আর্থিক সহায়তা বিতরণের সময় আমি ছিলাম না।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ঘটনাটি তদন্তের জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’



সাতদিনের সেরা