kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

সিংড়ায় সড়কের গাছ সাবাড়

নাটোর প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাটোরের সিংড়া উপজেলার গোটিয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছেন চামারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতালেব হোসেন।

নাটোর বন বিভাগ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন গোটিয়া কাঁচা রাস্তার দুই ধারে লাগানো হয় দুই শতাধিক ইউক্যালিপটাসগাছ। কিছু গাছ মরে গেছে। বাকিগুলো কাটার সময় এখনো হয়নি। সড়কের দুই পাশের গাছগুলো বড় হতেই এর ওপর নজর পরে আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব হোসেনের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, শ্রমিকরা সড়কের পাশের গাছ কেটে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সড়কের দুই পাশে কেটে নেওয়া গাছের গোড়া পড়ে আছে। গাছ কাটছিল আটজন শ্রমিক। দুই শ্রমিক কাটা গাছ ভ্যানে করে সরিয়ে নিচ্ছিল।

ভ্যানচালক আলী হোসেন জানান, মোতালেব গাছগুলো কেটে বেচেন। তাঁরা শুধু গাছগুলো বহন করে স্থানীয় করাতকলে নিয়ে যাচ্ছেন। তিন-চার দিন ধরে ছোট-বড় শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, মোতালেব এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে বেচে দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি, তাঁর চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি পুকুর, কৃষিজমি দখল করে বেচে দিয়েছেন। প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

অভিযুক্ত মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমরাই সরকারি রাস্তায় ইউক্যালিপটাসগাছগুলো লাগিয়ে ছিলাম । নিজেদের প্রয়োজনে গাছগুলো কেটে নিচ্ছি। ইউএনও বা বন বিভাগকে জানানোর প্রয়োজন মনে করছি না।’

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের গাছ অন্য কারো কাটার সুযোগ নেই। তিনি কিভাবে গাছগুলো কাটছেন আমার জানা নেই।’

সিংড়ার ইউএনও সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে লোক পাঠিয়েছিলাম। গাছ যে-ই লাগাক সড়কের মধ্যে বা সড়কের জায়গায় পড়লে তা সড়কের। এ গাছ কেউ কাটতে পারবে না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা