kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

বেনাপোল বন্দর

কোটি টাকার পণ্য চুরি সন্দেহে উপপরিচালক

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটি টাকার পণ্য চুরি সন্দেহে উপপরিচালক

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন শেড থেকে সম্প্রতি কোটি টাকার পণ্য চুরি হয়েছে। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই চুরির পেছনে বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদারের হাত রয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, খুলনার আমদানিকারক সান ওয়ার্ল্ড ট্রেড ভারত থেকে ১৯ লাখ ৯১ হাজার ৩২০ কেজি ভাঙা পাথর আমদানি করে, যা বন্দরের টিটিআইতে সংরক্ষণ করা হয়। এই পণ্য চালানটি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনারের (আইআরএম) নেতৃত্ব যাচাইয়ের সময় ১৭ লাখ ৯১ হাজার ৩২০ কেজি কম পাওয়া যায়। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে।

এ ছাড়া ১ নম্বর শেডে থেকে ১১০২ টন কাপড় চুরি হয়। যার আমদানিকারক বেনাপোলের এইচবি ইন্টারন্যাশনাল। পণ্যটি মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে চালানটি নিলামে ৬১ লাখ টাকায় বেচা হয়। নিলামকারী বেনাপোলের নোভা এন্টারপ্রাইজ পণ্য চালানটি খালাস নিতে গিয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। নিলামকারী তাৎক্ষণিক বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদারকে জানালে তিনি নিলাম ক্রেতা মোহাম্মদ আলী খানকে হুমকি দিয়ে বন্দর থেকে বের করে দেন। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মামুন কবির তরফদারের নেতৃত্বে বন্দরে একটি শক্তিশালী চোরচক্র গড়ে উঠেছে। তিনি বেনাপোলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে গত ২ বছরে বড় ধরনের পণ্য চুরির ঘটনা ঘটছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।’

বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, প্রতিটি শেডে গোপনে ‘ট্যান্ডেল’ নামে বহিরাগত একজন করে চোর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সরাসরি রাজস্ব ফাঁকি ও শেড থেকে মালামাল চুরির সঙ্গে জড়িত। নিলামকারীরাও তাদের মালামালের সঙ্গে অন্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বন্দরে মোট ৪২টি শেড রয়েছে, যার প্রতিটিতে একজন করে ‘ট্যান্ডেল’ কর্মরত।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার ওপারে ভারতের বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন কত ট্রাক পণ্য আমদানি হবে তা জানান। এরপর ভারত থেকে সেই সংখ্যক ট্রাক পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। ফলে ওপারে হাজার হাজার ট্রাক পণ্য আটক পড়ে থাকে। এ ছাড়া বন্দরের বিকল ওজন স্কেল নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ভারত থেকে সঠিক ওজন করে পণ্য এনে কাস্টমসের কাছে আমদানিকারকরা নানাভাবে হয়রানিসহ অতিরিক্ত শুল্ক ও জরিমানার শিকার হয়েছেন।’

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাবকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘কত ট্রাক পণ্য আমদানি হবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন মামুন তরফদার। তিনি একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে কাস্টমস ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।’

বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ‘চুরির বিষয়টি নিয়ে উত্তর দেবেন পরিচালক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন পরিচালক। আমি উত্তর দিতে বাধ্য নই।’

পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল বলেন, ‘পণ্য চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘বন্দরের বেশির ভাগ সমস্যা আমরা বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে নিয়ে সমাধান করেছি। মামুন কবির তরফদারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো নেই। টিটিআই থেকে ব্রোকেন স্টোন ও ১ নম্বর শেড থেকে দামি কাপড় চুরি গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।’



সাতদিনের সেরা