kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি!

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি!

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ছিল বাবার। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। এরপর ভাতা তুলতেন মা। সাত বছর আগে তিনি মারা গেছেন। সেই থেকে ভাতা তোলেন তাঁদের মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধার সর্বশেষ তালিকায় সেই মেয়ের নাম ঝুলছে।

গেজেট অনুযায়ী দেশ স্বাধীনের সাত বছর পর জন্ম নেওয়া এই নারী এখন মুক্তিযোদ্ধা। অবাক করা এই ঘটনা পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার নাম আবুল কালাম আজাদ শেখ। ১৯৯৬ সালে মারা যান। সরকারি বিধি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী হাওয়া বেগম ভাতাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। হাওয়া বেগম ২০১৪ সালে মারা যান। তাঁর দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে ভাতা বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী বাবার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মানী তোলার জন্য তিন ভাই-বোন মিলে বড় বোন সালমা বেগমকে নমিনি করে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সর্বশেষ সংশোধিত তালিকা চলতি বছরের ২৫ মার্চ প্রকাশিত হয়। গেজেটে সালমা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গেজেটে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। সেখানে স্বরূপকাঠির ৩৭৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত হয়। তালিকায় ১১১০ নম্বর ক্রমিকে গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গুয়ারেখার সালমা বেগম রয়েছে। সালমা বেগমের বেসামরিক গেজেট ১৯৪৮ নম্বর এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৬০৫০৭০০১৬।

সালমা বেগম মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের অন্তত সাত বছর পর ১৯৭৮ সালে আমার জন্ম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সর্বশেষ সংশোধিত গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার নাম রয়েছে। যে গেজেট নম্বর ও মুক্তিবার্তা নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমার মরহুম বাবার। গেজেট প্রকাশের আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমার কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়েছিল। তারাই বলতে পারবে কিভাবে আমার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এলো।’

নেছারাবাদ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ শেখ সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। প্রায় ২৪ বছর হলো তিনি মারা গেছেন। তাঁর অবর্তমানে স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলতেন। তিনিও কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এখন তাঁর বড় মেয়ে ভাতা নিচ্ছেন। সেই ভাতাভোগীর নাম কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এলো সেটা বলতে পারব না। গেজেট সংশোধিত না হলে সমস্যা দেখা দেবে।’

নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, ‘একজন অফিস সহকারী দিয়ে কাজ চলছে। এ কারণে হয়তো ভাতাভোগীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এসেছে। এটা সংশোধনের সুযোগ থাকলে অবশ্যই সংশোধন করা যাবে। আমি ভাতভোগীকে ডেকে এনে সংশোধন করে দেব।’



সাতদিনের সেরা