kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

করোনা ইউনিটে আড্ডা

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা ইউনিটে আড্ডা

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগীর স্বজনরা অবাধে আসা-যাওয়া করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট। আক্রান্ত রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে একই কক্ষে। সেখানে আবার উভয় ধরনের রোগীর স্বজনরা অবাধে আসা-যাওয়া করছে। এমনকি ওই কক্ষে শয্যায় বসে স্বজনদের গতকাল বৃহস্পতিবার আড্ডাও দিতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া করোনা শনাক্ত ও সন্দেহভাজন—দুই ধরনের রোগী ও তাদের স্বজনরা গাদাগাদি করে একই পথ ও লিফট ব্যবহার করছে। এমনকি করোনা ইউনিটের জন্য বরাদ্দ একমাত্র টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে আক্রান্ত রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে করোনা ইউনিট থেকেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন অনেকে।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকলেও নেই আইসিইউ শয্যাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। তাই গুরুতর রোগীদের পাঠানো হয় বিভাগীয় শহরে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা করোনা রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আরো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কথা হয় এক রোগীর স্বজন সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার বাবুলের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের অন্যান্য কক্ষে অক্সিজেন সুবিধা না থাকায় তাঁর স্ত্রীকে করোনা ইউনিটের একটি কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই কক্ষে পাশের বিছানায় আগে থেকে অন্য একজন শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি ছিলেন। কয়েক দিন পর জানা যায়, সেই বয়স্ক রোগী করোনা পজিটিভ। এখন বাবুলের পরিবারের সদস্যরা করোনা সংক্রমণ হওয়ার দুশ্চিন্তায় আছেন।

আরেক রোগীর স্বজন সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বালিয়াখুড়ি এলাকার আবু মনসুর জানান, তাঁর বাবার করোনা পজিটিভ। করোনা ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ওই ইউনিটেই অন্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সব রোগীর স্বজনরাই প্রতিদিন অবাধে আসা-যাওয়া করছে ওই ইউনিটে।

করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসা একজন জানান, করোনা ইউনিটের ইনচার্জ ওই ইউনিটের পাশাপাশি প্রতিদিন টিকা দেওয়ার কাজও করছেন। এতে টিকা নিতে আসা ব্যক্তিরাও করোনা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

আবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্যও আলাদা থাকার (আইসোলেশন) ব্যবস্থা নেই। এমনকি আলাদা টয়লেটও নেই।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স লতিফা বানু জানান, গত বছর করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন শেষে চিকিৎসক ও নার্সদের আইসোলেশনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর আক্রান্তের হার বেশি হলেও চিকিৎসক ও নার্সদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা না করায় তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে। এতে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ খোরশেদ আলম দাবি করেন, তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা ইউনিট ও অন্য দায়িত্ব পালন করছেন। এতে অন্য কারো সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মো. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, জেলায় আইসোলেশন শয্যা পর্যাপ্ত রয়েছে। করোনা ইউনিটে আক্রান্ত রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীদের আলাদা রাখার জন্য বলা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভর্তি থাকা রোগী, স্বজনদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং চিকিৎসক-নার্সদের হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউ শয্যার জন্য মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে। শিগগিরই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুয়ায়ী, জেলায় বর্তমানে ৭৫ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৬৪ জন হোম আইসোলেশনে এবং ১১ জন হাসপাতাল আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। জেলায় বর্তমানে সংক্রমণের হার ২০.৫৬ শতাংশ। আগের রিপোর্টসহ জেলায় সর্বমোট করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৬১৮। এর মধ্যে এক হাজার ৫০২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে। আগের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩১।



সাতদিনের সেরা