kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

চরফ্যাশন

বন বিভাগের অব্যবহৃত জমি চান ভূমিহীনরা

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভোলার চরফ্যাশনের সাগরমোহনার ঢালচরে বন বিভাগের দখলে থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার একর সরকারি জমি অর্ধশত বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। পাশাপাশি মেঘনার ভাঙনে গত ১০ বছরে এই ঢালচরের তিন হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের ছড়িয়ে দেওয়া আইনি জালের ফাঁস গলিয়ে অব্যবহৃত ওই সরকারি জমিতে গৃহহীনদের ঠাঁই মিলছে না। ফলে মেঘনার ভাঙনে গৃহহারা ভূমিহীন পরিবারগুলো জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত সাগরকূলে ভাসমান জীবন যাপন করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেঘনার থাবায় গত এক দশকে ঢালচর ইউনিয়নের দু-তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে যায়। ফলে সেখানকার তিন হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে গৃহহীন পরিবারগুলো জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত সগারপারে আশ্রয় নিয়েছে।

ভূমিহীন কৃষক আব্দুল কালাম মেম্বার জানান, প্রায় অর্ধশত বছর আগে পূর্ব ঢালচর ও দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালচরের তারুয়ায় বনায়ন করে বন বিভাগ। নতুন জেগে ওঠা এ চরের চারপাশে বনায়ন করলেও বিস্তৃত চরের মাঝখানে শত শত একর জমি ফাঁকা থাকে। এভাবে দুটি চরের সাড়ে চার হাজার একর জমি অর্ধশত বছর ধরে ফাঁকা রয়েছে।

স্থানীয় ভূমিহীনরা জানান, বন বিভাগের এই অব্যবহৃত জমিতে বসতির ইস্যুতে আদালত ভূমিহীনদের অনুকূলে ওই জমি বন্দোবস্ত প্রদানে রায় দিয়েছেন। কিন্তু ভোলা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আদালতের সেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। একদিকে সাড়ে চার হাজার একর সরকারি জমি অব্যবহৃত পড়ে আছে, অন্যদিকে ১০ হাজার গৃহহীন পরিবার সাগারের পানিতে ভাসছে। এই দুঃখজনক বাস্তবতায় গৃহহীন পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

চরফ্যাশন উপজেলা বন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, ‘পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালচরে সাড়ে চার হাজার একর খাসজমি অব্যবহৃত আছে। সেখানে ঢালচরের মেঘনার ভাঙনে আশ্রয়হীন সব পরিবারের বসতি সম্ভব। কিন্তু বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমার একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়।’ চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি বন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমরা স্থানীয় প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব মাত্র।’



সাতদিনের সেরা