kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

পুকুর কেটে পুকুর ভরাট

রাজশাহীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানছেন না প্রভাবশালীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুকুর কেটে পুকুর ভরাট

রাজশাহী মহানগরীর মোহনপুরে ৪০ বিঘা আয়তনের পুকুর রাতের আঁধারে ভরাট করছে আত তিজারা রাজশাহী লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ছবি : কালের কণ্ঠ

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজশাহী নগরীর কোনো জলাশয় ভরাট করা যাবে না। ২০০৯ সাল এই নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত, কিন্তু এখনো সেটি বাস্তবায়ন করার কোনো লক্ষণ চোখে পড়ছে না নগরবাসীর। ফলে একের পর এক পুকুর ভরাট চলছেই। এ ক্ষেত্রে এবার যোগ হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রকল্পের টাকা দিয়ে পুকুর খনন করে নগরীর ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাটের কাজ। এ নিয়ে নগরীর বুধপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

তবে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় অনেকেই ফোন করছেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে। এরই সূত্র ধরে গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে বিশালাকার পুকুর ভরাটের দৃশ্য দেখা যায়। নগরীর চৌদ্দপায় ফায়ারা সার্ভিস অফিস থেকে উত্তর দিকে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে কিছু দূরে গেলেই চোখে পড়বে বিশালাকার পুকুরের ভরাটকাজ চলছে। রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে খনন করা পুকুরের মাটি নিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন বুধপাড়া এলাকার পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। পুকুর ভরাটের স্থানে একটি সাইনবোর্ডও চোখে পড়ে। তাতে লেখা আছে, ‘বায়না সূত্রে এই জমির মালিক আত তিজারা রাজশাহী লিমিটেড।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আত তিজারার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম ওই পুকুরটির একটি অংশ কিনে নিয়েছেন। জেবের মিয়া নামের এক ব্যক্তির ৪০ বিঘা আয়তনের ওই বিশালাকার পুকুরটি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলেমিশে কিনে নিয়েছেন। তাঁরাই এখন রাতের আঁধারে দফায় দফায় ভরাট শুরু করেছেন। আর ভরাটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে খনন করা নতুন পুকুরের মাটি।

পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের নিজস্ব জমিতে কয়েকটি পুকুর খননের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে এ পুকুর খনন করা হচ্ছে, কিন্তু ওই পুকুর খনন করা মাটি দিয়েই মাত্র কয়েক শ ফুট দূরেই খোদ নগরীর ভেতরেই চলছে বিশালাকার পুকুর ভরাটের কাজ।

নগরীর বুধপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পুকুর খনন করছে। আবার সেই মাটি দিয়ে পাশেই পুকুর ভরাট চলছে। তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা কোথায় থাকল? এটি শুধু লোক-দেখানো প্রকল্পের নামে সরকারি টাকা হরিলুটের ফন্দি।’ রুবেল হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘পুকুর কেটে পুকুর ভরাট। মানে জলের টাকা জলে ঢালা ছাড়া কিছুই নয়। যদিও যাঁরা পুকুর ভরাট করছেন, তাঁরা মাটি কিনে নিয়ে সে কাজ করছেন। কিন্তু একদিকে খনন হচ্ছে, আরেক দিকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ভরাট হচ্ছে। তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়াল?’

এদিকে ভরাট করা পুকুর মালিক আত তিজারার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম দাবি করেন, জায়গাটি তিনি ধানি ও ভিটা বলে কিনেছেন। তবে সেখানে পানি রয়েছে। তাই তিনি সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খনন করা পুকুরের মাটি কিনে ভরাট করছেন। পুকুর ভরাটের বিষয়টি অস্বীকার করে আব্দুল হালিম আরো বলেন, ‘আমি কোনো পুকুর ভরাট করছি না। আমি আমার জায়গার নিচু স্থান ভরাট করে নিচ্ছি।’