kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

আদালতের রায়েও মিলছে না ঠাঁই

চরফ্যাশন

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আদালতের রায়েও মিলছে না ঠাঁই

ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নে মেঘনার তীব্র ভাঙনে এক হাজার ৪০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নে মেঘনার তীব্র ভাঙনে গৃহহারা এক হাজার ৪০০ পরিবারের ঠাঁই হচ্ছে না সরকারি খাসজমিতে। উচ্চ আদালতের রায় পেয়ে সীমানা নির্ধারণের পরও ভূমিহীন কৃষকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে না পেরে ঢালচরের এই অসহায় পরিবারগুলো পরিত্যক্ত বেঁড়িবাধের ঢালে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় ঢালচর বন বিভাগ দখলে রাখার কারণে ওই জায়গা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গৃহহারা পরিবারের মানুষের মধ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৫০ সালে বঙ্গোপসাগর মোহনায় ঢালচর দ্বীপের সূচনা হয়। ২০১০ সালে চরফ্যাশন উপজেলার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯ নম্বর ঢালচর ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৬ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে ঢালচরের দুই-তৃতীয়াংশ বিলীন হলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলে ওই এলাকার মানুষ। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এরই মধ্যে ছয়টি ওয়ার্ড পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই চরে হাজার দুয়েক পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের জমি-ভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ঢালচর থেকে তারুয়া পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ২০০ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মেঘনার ভাঙনে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারগুলো এই পরিত্যক্ত চাষযোগ্য চার হাজার ২০০ একর জমিতে নিজেদের অধিকারের দাবি নিয়ে উচ্চ আদালত গেলে নিজেদের পক্ষে রায় পায়। কিন্তু ৩৫ বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি বুঝে পায়নি তারা।

ঢালচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি আশ্রয় পায়, ঢালচরের মানুষ কেন জায়গা পাবে না? এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপন বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এখনো টানাপড়েন রয়েছে। উভয় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে জমি বন্দোবস্ত দিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।’



সাতদিনের সেরা