kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

লকডাউনেও মানুষের ‘শোডাউন’

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দুই দফায় ঘোষিত ‘লকডাউন’ মানছে না কক্সবাজারের চকরিয়ার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। লকডাউনের দিন যতই বাড়ছে, ততই হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ পরিবারের সদস্যদের মুখে দুই বেলা খাবার  জোটাতে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে। এদের মধ্যে কেউ ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক টমটম, আবার কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে নেমে পড়েছে। পাল্লা দিয়ে সাধারণ মানুষও ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ায় চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গায় রীতিমতো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও বালাই নেই।

এদিকে রমজান মাস হওয়ায় আসন্ন ঈদের কেনাকাটা সারতেও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পৌর শহর চিরিঙ্গামুখী হচ্ছে মানুষ। কোনো ধরনের বিপণিবিতান বা শপিং মল খোলা না রাখার বিষয়ে স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না পৌর শহরের চিরিঙ্গার ব্যবসায়ীরা। পৌর শহরের বেশ কয়েকটি বিপণিবিতানের ভেতরে অসংখ্য দোকান খোলা রেখে দিব্যি ব্যবসা চালানো হচ্ছে। বিপণিবিতানের বাইরে নিজেদের লোক দাঁড় করিয়ে রেখে অনেকটাই গোপনে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে ক্রেতাদের। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো ধরনের নজরদারির দেখা মিলছে না।

অন্যদিকে চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক টমটম ও অটোরিকশা অবাধে চলাচল করছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু গাড়ি ধরে থানায়ও নিয়ে যাচ্ছে। আবার ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাও দেওয়া হচ্ছে। এসব কিছু করেও লকডাউন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠপর্যায়ে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

লকডাউনে রাস্তায় বের হওয়া প্রসঙ্গে কয়েকজন খেটে খাওয়া ও দিনমজুর জানান, সরকার করোনা মোকাবেলায় লকডাউন ঘোষণা করেছে ঠিকই; কিন্তু কোনো ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না। এতে এই রমজানের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের দুই বেলা খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে কাজে নেমেছেন তাঁরা।

চকরিয়া কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দুই দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন ও সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হতে চললেও এখনো পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এই অবস্থায় আবারও এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো পেটের ক্ষুধা নিবারণে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে। তবে সরকার যদি দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর তালিকা করে তাদের বাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পণ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করত, তাহলে সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে চলত। তা না করে সরকার যতই লকডাউন দিক না কেন—তা কোনোভাবেই সফল হবে না।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়ার সদস্য এম আর মাহমুদ বলেন, ‘গত বছর লকডাউন চলাকালে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হয়েছিল। সেই সময় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও লকডাউন অনেকটাই মেনে ঘরে অবস্থান করছিল। কিন্তু এবারের লকডাউন কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া ব্যক্তিরা কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। তাই তাদের আর ঘরে বন্দি করে রাখা যাচ্ছে না। পেটের ক্ষুধার তাড়নায় তারা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছে কাজের সন্ধানে।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও বিত্তবানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি।’

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘ঈদের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে গরিব, দিনমজুর, অসহায় পরিবারগুলোকে নগদ টাকা দেওয়া হবে। এ জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় সবাইকে একটু কষ্ট মেনে নিতে হবে।’



সাতদিনের সেরা