kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

এনআইডি প্রতারক

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এনআইডি প্রতারক

সাজ্জাদ হোসেন

রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন। নিজেকে পরিচয় দেন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন প্রতারক। তাঁর প্রতারণার শিকার হয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ এখন নিঃস্ব। তিনি গ্রামের অতিদরিদ্র পরিবারের মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), বয়স্কভাতা, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা, সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে সম্প্রতি কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে নিয়েছেন তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে প্রতারণার শিকার কুলসুম বেগম নামের এক নারী সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বদরগঞ্জ পৌর শহরের পকিহানা ডাক্তারপাড়ার আব্দুস সামাদ মাস্টারের ছেলে সাজ্জাদ।

এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নিজেকে সরকারি বড় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন সাজ্জাদ হোসেন। সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে গড়ে তোলেন আত্মীয়তার সুসম্পর্ক। গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মানুষের নানা সমস্যার কথা শুনে তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেন তিনি। তাদের দুস্থভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখান। চাকরি ও ভাতার ধরন হিসেবে তাদের কাছ থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কাউকে কোনো চাকরি কিংবা সরকারি অনুদান এনে দিতে পারেননি। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী কুলসুম বেগম গত ৭ এপ্রিল পৌর শহরের পকিহানি ডাক্তারপাড়ায় সাজ্জাদের বাড়িতে যান। দরিদ্র মানুষের দেওয়া টাকা ফেরত চান তিনি। এ সময় তাঁকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন সাজ্জাদ। টাকা ফেরত দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে কুলসুম বেগম প্রতারক সাজ্জাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ এপ্রিল বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন অভিযোগকারী কুলসুম বেগম।

প্রতারণার শিকার দামোদরপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মোনাব্বির হোসেন নামের এক যুবক বলেন, ‘উপজেলা পরিষদে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন সাজ্জাদ। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমাকে চাকরি দিতে পারেননি। এখন টাকা চাইতে গেলে উল্টো হুমকি দিচ্ছেন।’ একই এলাকার শারমীন আক্তার বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন সাজ্জাদ।’ এভাবে দামোদরপুর এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি তাঁর প্রতারণার শিকার।

এদিকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার কথা বলে অন্তত ১০ জন নারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন প্রতারক সাজ্জাদ। এরপর সরকারের কার্ড প্রদানকারীর স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেন তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বসুনিয়া বলেন, ‘যাছাই করে দেখা গেছে এনআইডি কার্ডগুলো সঠিক নয়। ফটোশপে ভুয়া তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে তাদের সরবরাহ করা হয়েছে।’

অভিযোগকারী কুলসুম বেগম বলেন, ‘সাজ্জাদ বাড়িতে এসে প্রথমে আমার সঙ্গে বোনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গ্রামের প্রায় ৮০ জন বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখায়। এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ফেরত চাইতে যাওয়ায় আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সাজ্জাদ।’

বক্তব্য জানতে বদরগঞ্জ পৌর শহরের বাড়িতে গিয়ে সাজ্জাদ হোসেনকে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফায় তাঁর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও ফোন ধরেননি তিনি। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা