kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

গাফিলতিতে প্রকল্পের ২ কোটি টাকা ফেরত

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের কাজের প্রায় দুই কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের গাফিলতি ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৭৫টি প্রকল্পে পাঁচ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিকের ৪০ দিন কাজ করার কথা। আর পারিশ্রমিক হিসাবে প্রত্যেক শ্রমিকের আট হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় প্রকল্পে ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২৫ দিন পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান শ্রমিকরা। ফলে প্রত্যেক শ্রমিক মজুরি পান তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এসব কারণে এক কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ টাকা অব্যয়িত থেকে যায়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাওগাঁও ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা, পুঁটিজানা ইউনিয়নের সাতটি প্রকল্পের ১৬ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা, কুশমাইল ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা, বালিয়ান ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা, দেওখেলা ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৮০০ টাকা, বাকতা ইউনিয়নের পাঁচটি প্রকল্পের ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, এনায়েতপুর ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, কালাদহ ইউনিয়নের পাঁচটি প্রকল্পের ১২ লাখ এক হাজার ৪০০ টাকা, রাধাকানাই ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ২২ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা, আছিম-পাটুলী ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং ভবানীপুর ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্পের ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুশমাইল ইউনিয়নের ডাকাতের ভিটা মাদরাসা মাঠে ৮২ হাজার ৮০০ ঘনফুট মাটি ভরাটের প্রকল্প দেওয়া হলেও ৩০ হাজার ঘনফুট মাটি ভরাট কাজ বাকি রয়েছে। বালাশ্বর জুয়েলের দোকান থেকে তেলিগ্রাম রাস্তা সংস্করণে অর্ধেকেরও বেশি কাজ বাকি। তা ছাড়া কোনো কোনো প্রকল্পে নামকাওয়াস্তে কাজ করানো হয়েছে।

ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন বলেন, ‘৪০ দিনের মধ্যে ৩০ দিনে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যায়। ফলে বরাদ্দের টাকা অব্যয়িত রয়ে গেছে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পের সভাপতিরা যত দিন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছেন, তত দিনের বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় দুই কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে বরাদ্দের বাকি টাকা ফেরত গেছে।’



সাতদিনের সেরা