kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সন্তানকে বাঁচাতে বাবার ১১০ কিমি রিকশাযাত্রা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সন্তানকে বাঁচাতে বাবার ১১০ কিমি রিকশাযাত্রা

ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর ১১০ কিলোমিটার পথ অটোরিকশা চালিয়ে সাত মাসের অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে যান বাবা তারেক ইসলাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

লকডাউনে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে পারেননি। ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর ১১০ কিলোমিটার পথ অটোরিকশা চালিয়ে সাত মাসের অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে যান বাবা তারেক ইসলাম। গত শনিবার সকাল ৬টায় সন্তান ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল সোয়া ৩টায় পৌঁছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে জরুরি বিভাগে অসুস্থ সন্তান জান্নাতকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেন। বর্তমানে সে শিশু বিভাগের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে।

তারেক ইসলাম জানান, তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে খুব কম বয়স থেকে রিকশা চালাতে শুরু করেন। রিকশা চালিয়েই একসময় বাবাকে সহযোগিতা করতেন। বর্তমানে স্ত্রী সুলতানা বেগমসহ সংসারে তাঁর ৯ বছর ও তিন বছর বয়সী আরো দুই মেয়েসন্তান রয়েছে। রিকশা চালানোর পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। করোনায় এক বছর ধরে অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় বাড়তি আয় বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিতে রিকশা চালাতে না পেরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাঁর।

তিনি আরো জানান, গত ১৩ এপ্রিল রাতে শিশুটি রক্ত পায়খানা করলে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে রংপুরে রেফার করেন। কিন্তু লকডাউনে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়ার টাকা না থাকায় দিশাহারা হয়ে পড়েন বাবা। চার দিনেও টাকা জোগাড় করতে না পেরে সন্তানের জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে শনিবার রিকশা চালিয়ে সন্তানকে নিয়ে যান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসক জান্নাতকে দেখার পর কিছু ওষুধ ও স্যালাইন দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণ শেষে অস্ত্রোপচার করানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অস্ত্রোপচার করানোর মতো টাকা তাঁর কাছে নেই।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’