kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

আইসিইউ এখন টিকাকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইসিইউ এখন টিকাকেন্দ্র

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলাচল করছে লোকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে বগুড়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি, বেসরকারি সব হাসপাতালেই আইসিইউ বেডের (শয্যা) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত বেড আর লোকবলের অভাবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটই চালু করা যাচ্ছে না। 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ এপ্রিল জেলার আদমদীঘিতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তখন থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ২৭২ জন।

অন্যদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-গুলোতে আইসিইউ বেডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র আটটি। আর এইচডিইউ বেড আছে পাঁচটি। টিএমএসএস বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড ও পাঁচটি এইচডিইউ বেড আছে, যা সাত পয়েন্ট ছয় লিটার অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে চলে। এই হাসপাতালে কোনো সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের সিলিন্ডারের অক্সিজেনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত বেডের অভাবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা যাচ্ছে না। তার ওপর নেই প্রয়োজনীয় লোকবল। অথচ অনেক আগেই আট শয্যার এই ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে করোনার টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান সঞ্চয় বলেন, ‘আইসিইউ বেড, প্রয়োজনীয় দক্ষ অ্যানেসথেটিস্ট ও অন্যান্য লোকবল পেলে যেকোনো সময়ই আইসিইউ কার্যক্রম চালু করা যাবে। শুধু এই হাসপাতালই নয়, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও পর্যাপ্তসংখ্যক অভিজ্ঞ আইসিইউ চিকিৎসকের সংকট আছে।’

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ওয়াদুদ বলেন, ‘এই জেলায় শুধু শজিমেক হাসপাতালেই আটটি আইসিইউ বেডের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এইচডিইউর মাধ্যমে কাজ চালিয়ে আইসিইউয়ের অভাব পূরণ করা হচ্ছে এই হাসপাতালে। হাসপাতালে যখন কোনো আইসিইউ বেডের রোগী মারা যায় অথবা সুস্থ হয়ে চলে যায় তখনই মিলছে সিরিয়ালে থাকা অন্য রোগীদের বেড।’ ডা. ওয়াদুদ আরো বলেন, ‘হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৭৫টি বেড থাকলেও ৮৩ জন ভর্তি আছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় কম সংকটাপন্ন রোগীদের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু গুরুতর রোগীদের এখানে রাখা হচ্ছে।’

আইসিইউ বেড না পেয়ে কোনো রোগী অন্যত্র চলে যাচ্ছে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. ওয়াদুদ বলেন, ‘যেতে পারে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই আইসিইউ বেডের সংকট। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’